পঞ্চগড় জেলা পরিষদে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অধিক দামে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে টেন্ডার বাক্সের মাধ্যমে কোটেশন আহ্বান করা হয়েছিল। যেখানে ছয়টি শর্ত দেওয়া হয়। তবে এই প্রক্রিয়া ছিল শুধু কাগজে-কলমে এবং কোনো প্রচারণা ছাড়াই, টেন্ডার বাক্স না বসিয়ে সরাসরি ক্রয় করা হয়েছে এসব পণ্য।
এই পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। তারা জানিয়েছে, ভ্যাট ও ট্যাক্সের কারণে দাম কিছুটা বেশি পড়েছে। তারা আরও দাবি করেছেন, নোটিসে কোটেশন দাখিলের জন্য টেন্ডার বাক্সের উল্লেখ থাকলেও আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) প্রক্রিয়া অনুসারে টেন্ডার বাক্স প্রয়োজন হয় না।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি পাঁচটি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মনিটর এবং পাঁচটি প্রিন্টার ক্রয়ের জন্য আরএফকিউ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কোটেশন উন্মুক্ত করার সময় দেখানো হয় যে, শুধুমাত্র দিনাজপুর জেলার তিনটি কম্পিউটার দোকান—বিসিই কম্পিউটার, আইকন কম্পিউটার এবং কম্পিউটার বাজার—কোটেশন দাখিল করেছে। অন্যদিকে, পঞ্চগড় জেলার কোনো কম্পিউটার ব্যবসায়ী কোটেশন জমা দেননি।
কম্পিউটার বাজার নামে একটি দোকানকে ৭ লাখ ৮ হাজার টাকায় পাঁচটি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মনিটর এবং পাঁচটি প্রিন্টার সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই দোকানটি কোটেশন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেস্কটপের বাজার মূল্য ছিল ৬১ হাজার টাকা, তবে জেলা পরিষদ তা কিনেছে ৯৩ হাজার টাকায়। ল্যাপটপের বাজার মূল্য ছিল ৬৩ হাজার টাকা, তবে কেনা হয়েছে ৯৫ হাজার টাকায়। মনিটরের দাম ছিল সাড়ে ৯ হাজার টাকা। অথচ কেনা হয়েছে ১২ হাজার ৮০০ টাকায়। প্রিন্টারের দাম ছিল ১১ হাজার ৭০০ টাকা, তবে কেনা হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ টাকায়। কালার প্রিন্টারের বাজার মূল্য ছিল ১৮ হাজার টাকা, তবে ক্রয় মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ হাজার টাকা।
জেলা পরিষদের ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা উচ্চমান সহকারী নুরল আমিন এই বিষয়ে জানান, তার সঙ্গে দিনাজপুর জেলার কম্পিউটার বাজারের মালিক মোজাফফরের সখ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভালো মানের কম্পিউটার সংগ্রহের জন্যই জেলার বাইরে থেকে পণ্য ক্রয় করা হয়েছে এবং এখনও দাম পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি ২২ শতাংশ ভ্যাটের কারণে মূল্য বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি ডেস্কটপ জেলা পরিষদের অফিস কক্ষে এবং একটি ল্যাপটপ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই ব্যবহার করছেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আরএফকিউ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার বাক্সের প্রয়োজন হয় না।’ তবে ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলোর মডেল সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করেননি এবং ক্রয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এদিকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুরও ওঠেছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন ওই দাম দিয়ে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনা হলো এবং কেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে এই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

