নভেম্বর ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এক প্রকল্পের আওতায়, নড়াইল সদর উপজেলার সঙ্গে লোহাগড়া উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে নবগঙ্গা নদীতে নির্মীয়মাণ দুটি সেতু। এর মধ্যে একটি সেতু চালিতাতলা খেয়াঘাটে এবং অন্যটি নলদী জমিদারদের ঘাটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২১ সালের অক্টোবরে এই কাজটি শুরু করেছিল কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি নির্ধারিত সময়ে। প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানোর পর, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ।
এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সেতু না থাকায় নদী পারাপারে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন সদর ও লোহাগড়া উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ নদী পার হয়ে প্রয়োজনীয় কাজে আসা-যাওয়া করছেন। নদী পার করতে গিয়ে তাদের ১৩ কিলোমিটার পথের পরিবর্তে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ঘুরতে হয়।
নবগঙ্গা নদী দুটি উপজেলার মধ্যে এক প্রাকৃতিক বাধারূপে দাঁড়িয়ে আছে। ২০২১ সালে চালিতাতলা খেয়াঘাটে ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণে ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। যশোরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তখন তার অগ্রগতি ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। এর পরে আরও তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, সেতুর নির্মাণকাজে মন্থরগতি ও ঠিকাদারের উদাসীনতা তাদের জীবনযাত্রায় বিরাট বাধা সৃষ্টি করেছে। কানচনপুর গ্রামের মো. হাসেম শেখ বলেন, “এখানে একমাত্র নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়, যা খুবই কষ্টকর।” অন্যদিকে গণ্ডব গ্রামের ইমান উদ্দিন শেখ বলেন, “চালিতাতলা ঘাট থেকে নড়াইল শহরের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার কিন্তু সেতু না থাকায় ২৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।”
এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেতু দুটি নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের সুবিধা পাবে। চালিতাতলা, দত্তপাড়া, নলদী, মিঠাপুর, রায়গা, ভুমুরদিয়া ও অন্যান্য হাট-বাজারে প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেতু চালু হলে বাজারে পণ্য পরিবহনে খরচ কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরো চাঙ্গা হবে বলে তারা আশা করছেন।
চালিতাতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন কাজী বলেন, “সেতু না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সেতু চালু হলে বাজারে ক্রেতা সমাগম বাড়বে।” অন্যদিকে ব্যবসায়ী ইমারত হোসেন বলেন, “নৌকায় পণ্য পারাপারের খরচ অনেক বেশি, সেতু থাকলে খরচ কমবে এবং দামও কমে যাবে।”
এ বিষয়ে নড়াইল এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুণ্ড বলেন, “সেতু দুটি এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যান চলাচলের উপযোগী হলে এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ হবে।”

