বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ। তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ট্রেক নম্বর- ০৮১) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্পত্তি (লালমাটিয়ার জমি-বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ) পুনরায় অবরুদ্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
বিএসইসি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তামহা সিকিউরিটিজের লালমাটিয়ার জমি ও বাড়ি বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ রোধ করতে দুদককে এই অনুরোধ জানায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান, যিনি সম্প্রতি দুদককে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
তবে এই চিঠি সংক্রান্ত তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডি ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদককে পাঠানো চিঠিতে বিএসইসি জানায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। পরবর্তীতে সেই ডায়েরি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হারুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি জিআর মামলা দায়ের করে, যার নম্বর ৫৩/২০২৩।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৯ জুন মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নামীয় সম্পত্তি (লালমাটিয়ার জমি ও বাড়ি সহ) ক্রোক করার আদেশ দেয়। তবে সম্প্রতি তামহা সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা বিএসইসিকে লিখিতভাবে জানান যে, পূবালী ব্যাংক পিএলসির শাহবাগ শাখার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তামহা সিকিউরিটিজের ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে আদালত উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকাদেশ থেকে মুক্ত করে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আরও জানান যে, তামহা সিকিউরিটিজের ঋণ পরিমাণ ৫ কোটি টাকা হলেও, সম্পত্তির (লালমাটিয়ার জমি ও বাড়ি) বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। এই কারণে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিক্রি হওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের দ্বারা আত্মসাৎ হতে পারে। ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সম্পত্তি পুনরায় অবরুদ্ধ করার জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এ কারণে গ্রাহকদের প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ঘাটতি হয়। যার মধ্যে ৯২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা গ্রাহকের সমন্বিত হিসাব এবং ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা শেয়ারের বাজারমূল্য ঘাটতি হিসেবে ছিল।
বিএসইসি ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর তামহা সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে এবং ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. হারুনুর রশিদসহ তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে জানা যায়, তামহা সিকিউরিটিজের একটি সফটওয়্যার। যা সিডিবিএলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। তা ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের জন্য একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
দুদকের মামলায় তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ, পরিচালক জাহানারা পারভীন, ড. শাহনাজ বেগম, ৪ জন অ্যাকাউন্টস এক্সিকিউটিভ, ৬ জন অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নিবন্ধিত হয়।
এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

