শেয়ারবাজারে শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করার অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী মো. আবুল খায়ের হিরু, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডিআইটি কো-অপারেটিভকে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। বিএসইসি জানায়, ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারগুলো নিয়ে তাদের শেয়ার কারসাজি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয় হিরু, তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটি একাধিক বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব খুলে সিরিজ ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে মুনাফা সংগ্রহ করেন। এর ফলে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৪ টাকা ১০ পয়সা হয়ে যায়। যা ছিলো ৯০ দশমিক ১৭ শতাংশের একটি অসাধারণ বৃদ্ধি। শেয়ারবাজারে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল। যা অবশেষে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।
বিএসইসির নতুন কমিশন খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে, এই ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে সিকিউরিটির অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর সেকশন ১৭ (ই) (৫) অনুযায়ী, আবুল খায়ের হিরুকে ৪ কোটি টাকা। ডিআইটি কো-অপারেটিভকে ৫ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে অভিযুক্তদের মোট ১৯ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
হিরু ৩১তম বিসিএস (সমবায়) কর্মকর্তা হিসেবে শেয়ারবাজারে এসে পরিচিতি লাভ করেন। শেয়ার বাজারে অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানোর জন্য সিরিজ ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেন। বিএসইসি জানায়, হিরু ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ডের ফলে শেয়ারবাজারে একটি কৃত্রিম বাজার তৈরি হয়। যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করে তাদের শেয়ার ক্রয়ের জন্য। এটি সিকিউরিটিজ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে কাজী সাদিয়া হাসান ও ডিআইটি কো-অপারেটিভও একাধিক বিও হিসাবের মাধ্যমে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারগুলোর দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে একটি কৃত্রিম বাজার সৃষ্টি করেন। এর ফলে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বিএসইসি তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্সের বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘন উল্লেখ করে তাদের উপর এই জরিমানা আরোপ করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সাহায্য করবে।

