বাংলাদেশে বেল্ট তৈরিতে ব্যবহৃত আর্টিফিশিয়াল লেদারের কাঁচামালের অনুমোদনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বেল্ট তৈরির জন্য সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ জিএসএম (গ্রাম স্কয়ার মিটার) আর্টিফিশিয়াল লেদারের প্রয়োজন হয় কিন্তু বিভিন্ন বন্ডেড প্রতিষ্ঠান ইউপিতে প্রায় তিন হাজার জিএসএমের কাঁচামাল দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই অস্বাভাবিক অনুমোদনের মাধ্যমে রাজস্ব হারানো হচ্ছে। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাঁচামাল আমদানি করে অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে এবং তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে ১০টি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল যাচাই করা হয়েছে এবং সেখানে দেখা গেছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২১৫ কোটি টাকার রাজস্ব অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ইউপিতে অস্বাভাবিক কাঁচামাল অনুমোদন নেয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। যাতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, এই ১০টি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান এক হাজার ১৪২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে লক্ষাধিক কেজি আর্টিফিশিয়াল লেদার৷ যার সম্ভাব্য জড়িত রাজস্ব ২১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মতো। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইউপির হিসাব ও সহগে কারচুপির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ বন্ড কমিশনারেটগুলোকে আরো যাচাই-বাছাই করে ইউপি প্রদান করতে অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কার্যক্রমও নিবিড় তদারকির আওতায় রাখতে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জিএসএম অনুমোদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব ফাঁকি দেয় বা বাজারে বিক্রি করে দেয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এমন অনিয়ম রোধ করতে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আরও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

