কর্ণফুলী নদীতে দখলবাজির চিত্র উদ্বেগজনক। বর্তমানে নদীর পাঁচটি ঘাটে বৈধ ঠিকাদার খাজা শিপিং লাইন্সের কার্যক্রমে অবরোধ সৃষ্টি করেছে ‘তেল শুক্কুর’ বাহিনী। তারা ৯০টি অয়েল ট্যাঙ্কারের নাবিকদের ঘাট পারাপার, রশি বাঁধা এবং জাহাজ পরিষ্কারের কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। এসব কার্যক্রমে বাধা দিয়ে মাসে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শুক্কুর বাহিনী। এছাড়া ট্যাঙ্কারগুলো থেকে প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৯০ হাজার লিটার তেল চুরি করে। যা খোলাবাজারে বিক্রি করে তারা প্রায় ৭০ লাখ টাকা আয় করছে।
খাজা শিপিং লাইন্সের মালিক মো. ইকবাল হোসেন রেহান জানান, তারা তিনটি বড় কোম্পানি এবং বেশ কয়েকটি কোম্পানির ৯০টি অয়েল ট্যাঙ্কারের বৈধ ঠিকাদার। তবে সম্প্রতি তেল শুক্কুর বাহিনী তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। কর্মচারীদের মারধর করছে এবং মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা আমাদের বৈধ আয়ও জোর করে ছিনিয়ে নিচ্ছে।” এ বিষয়ে থানা ও আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও তেল শুক্কুর বাহিনীর প্রভাবশালী সখ্যতার কারণে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।
উল্লেখযোগ্য যে, মো. শুক্কুর, যিনি দুই দশক আগে মহিষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী জুলধা ইউনিয়নে শতকোটি টাকার মালিক। তার বিরুদ্ধে তেল চোরাচালানের ১৮টি মামলা রয়েছে এবং তিনি কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা গুপ্তাখাল ডিপো এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরের চোরাই তেলের একক নিয়ন্ত্রক। রাজনৈতিক সখ্যতার কারণে তিনি সব সময় আইন ও প্রশাসনের হাতের বাইরে ছিলেন। বর্তমানে বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় কর্ণফুলী নদীতে দখলবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটে খাজা শিপিং লাইন্সের বৈধ কার্যক্রমে সুনির্দিষ্টভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যেমন, ‘কিং ফিশার’ কোম্পানি তাদের ২৮টি ট্যাঙ্কারে খাজা শিপিংকে কাজ করার অনুমতি দিলেও, শুক্কুর বাহিনীর লোকজন তাদের কাজে বাধা দেয়। এর ফলে খাজা শিপিং বাধ্য হয়ে ইপিজেড থানায় জিডি করেছে এবং আদালতে মামলা করেছে।
শুক্কুর বাহিনী প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৯০ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করে। যা শহরের পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এখান থেকে তাদের মাসিক আয় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। তাদের সিন্ডিকেটে ১৭ জন দখলবাজ রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মারধর, নির্যাতন এবং তেল চোরাচালানের মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে শুক্কুর বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “খাজা শিপিংয়ের কাজে আমরা কোনো বাধা দিচ্ছি না। তারা তাদের কাজ করছে, আর আমরা আমাদের কাজ করছি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মিথ্যা।” তবে নৌ পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। শুক্কুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
কর্ণফুলী নদীর পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যেখানে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

