দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) নরসিংদী জেলার আড়াইহাজার উপজেলা ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাখ মিয়ার ব্যাংক হিসাব থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এই লেনদেনের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মো. আখতার হোসেন ৬ মার্চ সাংবাদিকদের জানান, লাখ মিয়ার চেয়ারম্যান থাকার সময় ৪৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসব সন্দেহজনক লেনদেন ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, লাখ মিয়া অবৈধভাবে ৫৫.২৩ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়াও, ACC আজ লাখ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, লাখ মিয়ার মোট সম্পদ ৫৮.৭০ কোটি টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের পরিমাণ মাত্র ৩.৪৬ কোটি টাকা। তার ব্যাংক হিসাব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৭১৮৮.৮৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন এবং ৭১৮৭.৩২ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এসব সম্পদ তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্জন করেছেন।
এছাড়া, ACC তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মাহমুদা বেগমের নামে ১৪.৫০ কোটি টাকার অঘোষিত সম্পদ পাওয়া গেছে। লাখ মিয়ার স্ত্রীর ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪৬১.১৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩০.৬৯ কোটি টাকা জমা এবং ২৩০.৪৮ কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে।
এছাড়া, লাখ মিয়ার কর্মচারী মো. মোহসিন মোল্লার ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০৩২২.৭৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে। মোহসিন মোল্লার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১২ হাজার টাকা। তিনি NRB Textile Mills Ltd এবং M/S NRB Traders কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫১৬১.৪২ কোটি টাকা জমা এবং ৫১৬১.৩৫ কোটি টাকা উত্তোলিত হয়েছে। ACC এখন মোহসিন মোল্লা এবং তার স্ত্রীর আর্থিক কার্যক্রম তদন্ত করবে।
লাখ মিয়া কে?
লাখ মিয়া ২৫ ফেব্রুয়ারি “অপারেশন ডেভিল হান্ট”-এর অংশ হিসেবে গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। লাখ মিয়া আড়াইহাজার উপজেলার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য। তিনি তিনবার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যার পেছনে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবুর সহায়তা।
রাজনৈতিক জীবনে লাখ মিয়া নিজেকে একজন শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে, তিনি স্থানীয়ভাবে জমি দখল ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি অনেক জমি দখল করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র অর্থ পরিশোধ করেছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কোনো টাকা ছাড়াই জমি দখল করেছেন।
লাখ মিয়ার অর্থের জগত শুধুমাত্র তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম, মেয়ে মিনজু আখতার, হাফসা আখতার এবং তার সহকারীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা রয়েছে।
শোনা যায়, লাখ মিয়ার ঢাকায় অন্তত ১১টি সম্পত্তি রয়েছে। তার নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৪৫০ বিঘা। তার পরিবারও বেশ কিছু জমির মালিক।
পারিবারিকভাবে, লাখ মিয়া মালিকানা করেন ভাই ভাই স্পিনিং মিলসের। তবে, এই মিলটি তার বিশাল অবৈধ সম্পদের একমাত্র আড়াল হিসেবে কাজ করে।
এটি একটি বড় ধরনের দুর্নীতি। যার ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে।

