বিএসইসি (শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা) এখন এক অস্থির অবস্থার মধ্যে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিএসইসির অফিসে কর্মবিরতি ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ছিল। যদিও নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন কর্মকর্তারা।
তবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কোন কাজ করেননি তারা। সেদিন বিকেলে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সাংবাদিকদের সামনে এসে ঘোষণা করেন, তাঁর কমিশন যেই ‘মিশন’-এ রয়েছে, তা থেকে একচুলও নড়বে না। এই বক্তব্যে পরিষ্কার হলো, তিনি কোনো ধরনের চাপ বা দাবির সামনে মাথানত করবেন না।
এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারের প্রধান অংশীজন। অর্থাৎ ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, শেয়ারবাজারের এই অচলাবস্থা সমাধান না হলে দেশের শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হবে এবং এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এর ফলে বাজারে বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ হয়নি। শেয়ারবাজারের দুই প্রধান অংশ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তে স্বাভাবিকভাবে শেয়ার কেনাবেচা চলেছে। তবে সবাই জানে, পুরো পরিস্থিতি এখন বিএসইসির কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বিএসইসির কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত হলেও কোনো কার্যক্রম শুরু করেননি। বিএসইসি কার্যালয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএসইসি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের অধীনে ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের যথাযথ গুণাবলি নেই। তারা অভিযোগ করেন যে, কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বেআইনিভাবে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে অবসর পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও তাঁর চার কমিশনার বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হননি। তাঁরা সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা গেছে, এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা বিএসইসির কাজের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান তাঁদের সাথে আলোচনা করেন। বিকেলে তিনি কমিশনে ফিরে এসে জানান, সরকারের সাথে আলোচনার পর তিনি তাঁর মিশন থেকে একচুলও নড়বেন না। তিনি বলেন, “নিষ্ঠা ও নিয়ম-নীতির সঙ্গে কাজ করে যাব।”
অর্থ উপদেষ্টা এ সময় মন্তব্য করেন, “শেয়ারবাজারে একজন কমপিটেন্ট (যোগ্য) চেয়ারম্যান রয়েছেন, তিনি সবকিছু দেখছেন।”
বিএসইসির চলমান অচলাবস্থা এরই মধ্যে অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে অবসরে পাঠানো নিয়ে গত বুধবার থেকে বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা অস্বচ্ছভাবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তাদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।
এ পুরো পরিস্থিতি দেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিএসইসি কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। যাতে বাজারে আস্থা ফিরে আসে এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ারবাজারে আগ্রহী হন।

