চট্টগ্রাম বিভাগে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় কাঠ ব্যবহার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই কাঠ চোরাই পথে আসে। এতে বনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। বন বিভাগ মনে করে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করতে ও বনের কাঠ ব্যবহার বন্ধ করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোর ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
২০২২ সালে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টে রিট করে। আদালত এই আদেশ দেন। তবে দুই বছরেও এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য এবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশন একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। গত তিন মাসে এই কমিটি ২৭৪টি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শারমিন জাহান বণিক বার্তাকে বলেন, “আমরা অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কাজ শুরু করেছি। এ জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২৭৪টি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন থেকে আমরা নিয়মিতভাবে মনিটরিং করব।”
তিনি আরও বলেন, “বন বিভাগকে বনের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিবেশ অভিযোগ পেলে দ্রুত অভিযানে নামার জন্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। ইটভাটাগুলো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।”
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার বলেন, “বেশিরভাগ ইটভাটা বনের কাছে অবস্থিত। সেখানে দ্রুত অভিযান চালানোর জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বন বিভাগের লোকবল সংকট থাকলেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করছি।”
চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের প্রতিবেদনে আরও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে প্রশাসন, পরিবেশ, বন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের সহায়তা নেয়া। এছাড়া বনজ কাঠের ব্যবহার বন্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মিত তদন্ত চালানো হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক নুর আলম জানান, “অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান বাড়ানো হয়েছে। বনের কাঠ ও কৃষি জমির টপ সয়েল ব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।”
সরকারি দপ্তরের সমন্বিত কাজ এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

