ই-পাসপোর্ট ইস্যুতে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডাটা অ্যান্ড পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামানকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডে এক ধাপ নিচে নামানো হয়েছে। এর ফলে তার মাসিক বেতন কমেছে ১ হাজার ৭১০ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৪ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।
ঘটনার সূচনা ঘটে যখন এনায়েত উল্লাহ লিটন মিয়ার এমআরপি নম্বর ব্যবহার করে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। এ আবেদনের ভিত্তিতে এনায়েত উল্লাহর নামে ই-পাসপোর্ট ইস্যু হয়। এতে বাতিল হয়ে যায় লিটন মিয়ার আসল এমআরপি পাসপোর্ট।
তদন্তে উঠে আসে, ই-পাসপোর্ট আবেদন যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত এবিআইএস সফটওয়্যারে আবেদনকারীর মুখাবয়ব ও আঙুলের ছাপ আবেদনকারীর সঙ্গে মেলেনি। তা সত্ত্বেও সিস্টেম আবেদনে ‘বাতিল’ দেখায়নি। বরং সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামান তার ইউজার আইডি দিয়ে ইআইডি রিলিজ ও অনুমোদন করেন।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও গত ২৭ মে বিভাগীয় মামলা হয়। তার ব্যক্তিগত শুনানিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
পরে উপসচিব মোহাম্মদ আবু কাউছারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি নথি, সাক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মত দেয়—হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে লঘুদণ্ড দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বেতন ৩৫ হাজার ৮৮৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর পর তিনি আগের গ্রেডে ফিরতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থায় বকেয়া সুবিধা পাবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

