নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মালবাহী জাহাজ ভাড়া এনে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ডে প্রায় ১৫ দিন ধরে জাহাজটি কেটে স্টিল প্লেট বিক্রি করা হয়।
শিপইয়ার্ডটি শাহাদাতের বাবা ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জাহাজের মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাকেশ শর্মা মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, জাহাজটি কেটে বিক্রির ফলে তাঁর ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বুধবার সকালেই পুলিশ নজরুল ইসলাম নামে এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করে এবং বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার নজরুল নোয়াখালীর হাতিয়ার চরবগুলা গ্রামের ইমানুল হকের ছেলে।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ডাম্ব বার্জ (ডিবি) ধরনের জাহাজটি গত ১ নভেম্বর ৭ লাখ ২০ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তিতে ভাড়া করা হয়। জাহাজ ভাড়ার কাজটি জাফর নামে একজন করেন- যিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা এবং নারায়ণগঞ্জে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে জাহাজ সংগ্রহের কাজ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাফরের সঙ্গে মিলেই শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়া ও হোসেনসহ প্রায় ১০–১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট জাহাজটি শিপইয়ার্ডে নিয়ে কেটে ফেলে।
গত রোববার সকালে রাকেশ শর্মা মোবাইল ফোনে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে জাহাজ কাটার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে আসেন এবং তথ্য-প্রমাণ পেয়ে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর অভিযোগ, শাহাদাতের বাবা প্রথমে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও পরে তা এড়িয়ে যেতে শুরু করেন যা তাঁকে আইনি পথে যেতে বাধ্য করে।
অভিযুক্ত শাহাদাতের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিপইয়ার্ডের মালিক ও বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর জাহাজ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান খান জানান, মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রির ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, রফিকুল ইসলাম গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সময়ে জাতীয় পার্টির তৎকালীন সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার আস্থাভাজন হওয়ায় ছাত্রদল নেতা শাহাদাত বিভিন্ন শিল্প কারখানায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। এদিকে, হেফাজত ইসলামের নেতা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের মামলায় আসামি হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম পুনরায় বিএনপিতে ফিরে আসেন।

