ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ, ঝাউ ও গোলপাতার বাগান এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নতুন কাউখালী চরের পশ্চিমাংশের চর সাইনবোর্ড এলাকায় ৩০ একর সরকারি গেজেটভুক্ত উপকূলীয় বনভূমি তরমুজ চাষের জন্য ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের অনুমতিতে উজাড় করা হচ্ছে। বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও অনুমতি বহাল থাকে এবং থানা পুলিশ কোনো সহায়তা দেয়নি।
গত ১৭ নভেম্বর থেকে তিনটি এক্সকাভেটর দিয়ে বনায়ন উজাড় শুরু হয়। ১৮ নভেম্বর বন বিভাগের বাধা সত্ত্বেও কাজ থেমে যায়নি। ঝাউ ও ম্যানগ্রোভ গাছ নদীতে ফেলা হয়েছে এবং নতুন বাঁধ নির্মাণ চলছে। শীতকালে এই বনায়নে প্রতিবছর হাজারো অতিথি পাখি আশ্রয় নিতেও আর জায়গা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, বন উজাড়ের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কাজী জাহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ দালাল মানিক মোল্লা।
অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর অনুমতিপত্র বের করার পেছনে ঘুষ ও তদবিরের অবদান রয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে গেজেটভুক্ত এই ১,০৮৭ একর বনভূমিতে ঝাউ, সুন্দরী, গোলপাতা ও ম্যানগ্রোভের বনায়ন করা হয়।
রাজীব দাশ পুরকায়স্থ স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রে এই ৩০ একর জমি এক বছরের জন্য ২৫ জন ভূমিহীন কৃষকের ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়। যদিও অনুমতিপত্রে নাম থাকা ব্যক্তিরা মাঠে নেই, বরং মানিক মোল্লা ও তার সহযোগীরা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মানিক মোল্লা জানিয়েছেন, চাষের জন্য মোট ৭ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছিল, যার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদত্ত হয়েছে।
কাউখালী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহম্মেদ খান বলেন, বন বিভাগ যেসব আপত্তি জানিয়েছিল, ইউএনও তা উপেক্ষা করেছেন। রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বনভূমি দখলে বাধা দিলে ইউএনও বলেন, “এখানে কেন গেলেন, এটি আমার জায়গা।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান মনে করেন, বনভূমি ধ্বংসের ফলে উপকূলের সুরক্ষা দুর্বল হবে, উষ্ণায়ন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ইউএনও তাকে এই অনুমতির বিষয়ে জানায়নি। বন উজাড়ের খবর পেয়ে ইউএনওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

