ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা পাওয়া এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণের নামে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলাগুলিতে গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং জনতা ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। আজ রোববার চট্টগ্রাম-১ দুদক কার্যালয়ে এসব মামলা দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ।
মামলাগুলিতে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিল এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে ঋণ নিয়ে মোট ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ঋণ নিয়ে সুদসহ মোট ২ হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা ২৩ পয়সা আত্মসাত করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফারজানা পারভীনকে; যাকে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম দুই নম্বর আসামি। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ২৮ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের নামে ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ নিয়ে সুদসহ মোট ২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাত করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুল আলমকে করা হয়েছে; এছাড়া জনতা ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ নিয়ে সুদসহ মোট ১ হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা ৬১ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ৩১ আসামির মধ্যে সাইফুল আলমের পাশাপাশি জনতা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে ১৭ ডিসেম্বর সুগার মিল ও সুপার এডিবল মিলের নামে তিন হাজার ৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুইটি মামলা করা হয়েছিল।

