প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার এবং ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ পৃথক অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।
প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র এবং বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করেন। অপর গ্রেপ্তার মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
শেরপুর জেলার বাসিন্দা রাকিব হোসেন প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়েছেন। তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি থেকে ধ্বংসস্তূপের ছবি তুলে পোস্ট করা হয় এবং সেখান থেকে উসকানিমূলক পোস্টও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হামলার ঘটনায় লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. নাইম স্বীকার করেছেন, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। ওই লুট করা অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টেলিভিশন এবং একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে ওই ফ্রিজ ও টেলিভিশন উদ্ধার করেছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকার একাধিক থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছে যে, সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

