দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাগুজে প্রতিষ্ঠান দিয়া শিপিং লিমিটেডের নামে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি ও পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার।
আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থার ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মামলাটি ২০২২ সালের ১৯ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত দায়ের করেন।
প্রধান আসামিরা:
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার, দিয়া শিপিং লিমিটেডের সাবেক এমডি শিব প্রসাদ ব্যানার্জী, পরিচালক পাপিয়া ব্যানার্জী, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম.এ হাফিজ, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক অরুণ কুমার কুণ্ডু, অঞ্জন কুমার রায়, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, উজ্জল কুমার নন্দী, সত্য গোপাল পোদ্দার এবং সাবেক এমডি ও সিইও মো. রাসেল শাহরিয়ার।
তদন্তে আসামিরা:
ইটা অ্যান্ড টাইলস লিমিটেডের এমডি এম নওশেরুল ইসলাম, দিয়া অয়েল লিমিটেডের এমডি বাসুদেব ব্যানার্জী, পরিচালক পুজা ব্যানার্জী, এমএসটি মেরিন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেডার্স লিমিটেডের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস, মমতাজ বেগম এবং বি.ডি.এস অ্যাডজাস্টার্সের চিফ এক্সিকিউটিভ ইবনে মোফাজ্জল বারকি।
তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান দিয়া শিপিং লিমিটেডের নামে ঋণ হিসেবে ৪৪ কোটি টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। মামলার অন্যতম আসামি সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ারকে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীর নেতৃত্বে উনি গ্রেপ্তার হন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম দ্বারা।
পি কে হালদার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশত্যাগ করেন। পরে তিনি নাম পাল্টে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করেন। গ্রেপ্তারের আগে রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপন ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে রয়েছেন।

