নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ২০৬ গ্রাহকের অর্থ প্রতারণার অভিযোগে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াফি শফিক মেনাজ খানসহ আট পরিচালকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত।
গত মঙ্গলবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনারগাঁও আমলি আদালতের বিচারক মাইমানাহ আক্তার মনি আসামিদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে, প্রতিষ্ঠানটির সোনারগাঁও নয়াপুর শাখার এরিয়া ম্যানেজার সেলিম কবির ৩১ জুলাই একই আদালতে চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি নালিশ দায়ের করেন। আদালত নালিশটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার পিটিশন নম্বর ৩১০/২৫।
বাদী অভিযোগ করেন, তিনি শাখার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বপালনকালে ২০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ৮২৯ টাকা বীমা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেন। তবে গ্রাহকদের জানানো ছাড়াই শাখা কার্যালয়টি হঠাৎ ঢাকার হেড অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
বীমা প্রিমিয়ামের মেয়াদ শেষ হলেও ২০৬ জন গ্রাহকের পাওনা টাকা আটকে পড়ে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা ‘দেই-দিচ্ছি’ বলে টালবাহানা শুরু করেন। এর ফলে গ্রাহকেরা বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। পরে ৩১ জুলাই বাদী সেলিম কবির আবারও আদালতে অভিযোগ করেন। পুলিশ তদন্তে আট জনের বিষয়ে তথ্য প্রমাণসহ রিপোর্ট দাখিল করে।
৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আদালতে শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের পরবর্তী ধার্য তারিখে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। সমনপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: মোহাম্মদ সাজ্জাদুল করিম, সৈয়দ আলীউল আহাব, মো. ওয়ালিউল্লাহ খান, তানভীর ইয়াজদানী, রুবাইয়াত আহমেদ, মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন ও কাজী আহমেদ সাবিহুজ্জামান।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম রোকন বলেন, আদালতে চেয়ারম্যানসহ সাত পরিচালককে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

