বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘খালাসী’ পদে চাকরি দেওয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবজুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গণকর্মী হলেও সৈয়দ আবজুরুল হক প্রতারণা ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে রেলওয়ের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার মিথ্যা আশ্বাস দেন। তিনি ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ‘খালাসী’ পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ৮ জন চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে এস.এ পরিবহন (প্রা.) লিমিটেডের মাধ্যমে এবং হাতে নগদ সর্বমোট ৬৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
আসামি ওই অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে ভুয়া আশ্বাস দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। মামলায় তাকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ও ১৬২ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০২১ সালে রেলওয়ে ১০৮৬ ‘খালাসী’ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর পর ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক দেখা দেয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর খালাসী গ্রেড-২০ পদে অনলাইন আবেদন শেষ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ নভেম্বর ২০২২ সালে। এরপর ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫৫৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ সালে ১৭৭২ জনকে খালাসী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

