জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মামলার অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
দুদকের অনুমোদিত মামলায় সালমান এফ রহমানের ভাই এ এস এফ রহমানকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামি হয়েছেন সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।
এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক রীম, এইচ শামসুদ্দোহা ও এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় জনতা ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সিইও আব্দুছ ছালাম, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান, সাবেক এজিএম মো. হুমায়ুনি কবীর ঢালী এবং সাবেক ম্যানেজার শ. ম. মাহাতাব হোসেন।
এ ছাড়া কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ এবং পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ইডিএফ সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। পরে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

