শেরপুর সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন রহমান অমির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। অভিযোগ, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন।
দুদকের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের উপসহকারী পরিচালক আতিউর রহমান বাদী হয়ে ৭ জানুয়ারি শেরপুর সিনিয়র স্পেশাল ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জামালপুর ও শেরপুরের স্পেশাল জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোখলেছুর রহমান জীবন। মামলার আসামি ডা. শারমিন রহমান অমি জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিকের মেয়ে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডা. শারমিন রহমান অমি ২০১৯ সালের ৮ মে মেডিকেল অফিসার পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। একই বছরের ২৬ আগস্ট তিনি শেরপুরে কর্মস্থলে যোগদান করেন। এরপর তিনি বাবার পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে শেরপুর সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নলকূপ স্থাপনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো নলকূপ ক্রয় বা স্থাপন না করে তিনি শেরপুরের নয়ানী বাজারের মেসার্স ফাগুন মেশিনারির নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
এছাড়া, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব), মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এমএসআর, ওষুধ ও প্রতিষেধক খাতে শেরপুরের মুকুল মেডিকেল হল অ্যান্ড সার্জিক্যাল, সুরধ্বনি মেডিকেল, সাহা মেডিকেল, শাহীন ফার্মেসি, তালুকদার ফার্মেসি এবং শ্রীবরদী উপজেলার বাসার ড্রাগস অ্যান্ড মেডিসিন কর্নারের নামে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল দেখিয়ে আরও ৯ লাখ ১১ হাজার ২৪৯ টাকা আত্মসাত করেছেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের শেরপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু দাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ডা. শারমিন রহমান অমি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় তাকে একাধিকবার শোকজ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী আতিউর রহমান বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব ব্যবহার করে ডা. শারমিন রহমান অমি একাধিক পদে দায়িত্ব পালনের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ডা. শারমিন রহমান অমির সঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন।

