রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গ্রুপের ডেনিম মিল, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, পলি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, পাটকল, রাসায়নিক ফ্যাক্টরি, পরিবহন, চা-বাগানসহ ১০টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) তলব করা হয়েছে।
গত রবিবার বিশেষ অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত চিঠি বিভিন্ন ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানি বা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে হা-মীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক প্রতিবেদন আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ কে আজাদসহ গ্রুপের মালিকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয় বা লাভ-লোকসানের তথ্য গোপন ও জালিয়াতি করে এনবিআর, আরজেএসসি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে তিন রকমের বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব রিপোর্টে জালিয়াতি প্রতীয়মান হয়েছে। ব্যাংকঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিপুল লাভ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে এনবিআরে জমা অডিট রিপোর্টে লোকসান দেখানো হয়েছে। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে জমা প্রতিবেদনে সীমিত লাভ বা কোনো ক্ষেত্রে লোকসান দেখানো হয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে হা-মীম গ্রুপের ১০ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো–ডেনিম মিল, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, এমব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং ফ্যাক্টরি, কার্টন ফ্যাক্টরি, পলি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, লেবেল ফ্যাক্টরি, ট্রান্সপোর্ট, জুট মিল, চা-বাগান ও কেমিক্যাল ফরম্যুলেশন প্ল্যান্ট। পরবর্তীতে গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনও তলব করা হতে পারে।
রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে হা-মীম গ্রুপের বিরুদ্ধে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শুরুতে তিন সদস্যের বিশেষ টিম একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত হয়। কিন্তু কাজ শুরু করতে না পারায় টিম পুনর্গঠন করা হয়। দ্বিতীয় টিমও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না দেখালে আবার টিম পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম টিমের দায়িত্ব পান দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাত। তিনি চার সদস্যের বিশেষ টিমের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে এনবিআর, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যাংকে নোটিশ পাঠান।
এদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের পৃথক অভিযোগে এ কে আজাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। ওই সময় তাকে দুদকে তলব করা হয় এবং ২২ মে তিনি হাজির হয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালীদের কারণে অনুসন্ধান বেশি দূর এগোয়নি।
ওয়ান-ইলেভেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ কে আজাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল দুদক। ২০০৮ সালে রমনা থানায় দায়ের করা ওই মামলাটি সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে আদালতে টেকেনি।

