দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মহাব্যবস্থাপক (শিপ পার্সোনেল/চলতি দায়িত্ব) জিয়াউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ রয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ সালে কেনা নতুন পাঁচটি জাহাজসহ ‘বাংলার অগ্রগতি’ ও ‘বাংলার অগ্রযাত্রা’ জাহাজের ড্রাই ডকিং কার্যক্রমে তেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত ক্রয় ও ব্যয় গোপন রাখার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, জাহাজ বহরের স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, জেনারেটর ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ, ক্লাস সার্টিফিকেট নবায়ন এবং বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সার্ভে রিপোর্টসহ একাধিক ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ আছে। কমিশন মনে করছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জিয়াউর রহমান দাপ্তরিক দায়িত্বের নাম করে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এর বিপরীতে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে এসব বিদেশ সফরের সরকারি আদেশ (জিও), ভ্রমণ ব্যয় ও আনুষঙ্গিক খরচে স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দুদক ইতিমধ্যেই বিএসসির কাছে অভিযোগ সংক্রান্ত সব নথি ও তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জাহাজ ‘বাংলার জ্যোতি’-তে তেল চুরির তদন্ত প্রতিবেদন, জিয়াউর রহমানের দাপ্তরিক বিদেশ ভ্রমণের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট জিও, বিমানভাড়া, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের হিসাব।
তদুপরি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘বাংলার জ্যোতি’ জাহাজের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব, ব্যয়ের ভাউচার, বিল ও অন্যান্য আর্থিক নথি তলব করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ সালে পাঁচটি নতুন জাহাজসহ ‘বাংলার অগ্রগতি’ ও ‘বাংলার অগ্রযাত্রা’ জাহাজের ড্রাই ডকিং কার্যক্রমের প্রাক্কলন, বরাদ্দ, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, দরপ্রস্তাব, দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, চুক্তি, পরিমাপ বহি, পরিশোধিত বিল-ভাউচারসহ সব রেকর্ডও তলব করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জাহাজের ড্রাই ডকিং সংক্রান্ত বিএসসির নীতিমালা, বিদেশে জাহাজ অবস্থানকালে কর্মকর্তাদের তালিকা, তাদের ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যয়ের বিবরণ, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ব্যবস্থা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত দরপত্র নথি, ২০২০-২৪ সাল পর্যন্ত ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ জাহাজের জেনারেটর ক্রয় ও মেরামতের তথ্য, ক্লাস সার্টিফিকেট নবায়ন ও বাতিলের বিবরণ, বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত সার্ভেয়ার রিপোর্ট এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির কপি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জিয়াউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসালম বলেন, “জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদও অনুসন্ধানের আওতায় আছে।”
এছাড়া, দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম এই অনিয়ম খতিয়ে দেখছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ।

