বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুই ডজনের বেশি মামলা করা হয়েছে। নতুন করে এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খুঁজছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নতুন অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শতাধিক কর্মকর্তার মধ্যে ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ লক্ষ্য করা হয়েছে, যা কয়েক হাজার কোটি টাকার সমমূল্য হতে পারে। এদের মধ্যে রয়েছেন:
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. বেলায়েত হোসেন ও মো. আলমগীর কবির
- পিজিসিবি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম-আলবেরুনী
- বিপিডিবির সদস্য আনম ওবায়দুল্লাহ ও সাবেক সদস্য মো. শামসুল আলম
- বিপিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম
- সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও পিজিসিবি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া
- বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (কুমিল্লা জোন) প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মঈন উদ্দিন
- বিপিডিবির পরিচালক সাইদ একরাম উল্লা, পরিচালক মনিরুজ্জামান ও পরিচালক আনম তারিক আব্দুল্লাহ
দুদক জানিয়েছে, এই কর্মকর্তাদের সকলের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অনুসন্ধান দেশের বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লুটপাটের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করেছে। বিশেষ তদন্ত-১-এর (উপপরিচালক) মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হলেও এখন বৃহৎ আকারে ১৩টি পৃথক অনুসন্ধান টিম পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
প্রত্যেক অনুসন্ধানী টিমে রয়েছেন পরিচালক, উপ-সহকারী পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা। পূর্ণাঙ্গ তদারকি করছেন বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এর পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভুঞা। একই সময়, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজরে এসেছে সাবেক সচিব আহমেদ কায়কাউস, ডিপিডিসির সাবেক এমডি বিকাশ দেওয়ান, প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক এবং লাইনম্যান জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকের নাম।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ ও মাহবুবুর রহমান এবং একজন সাবেক এমডি মাসুম-আলবেরুনীর নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল অপ্রদর্শিত সম্পদ খুঁজে পাওয়া গেছে। রাজধানীর গুলশান ও ধানমন্ডির অভিজাত এলাকায় কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনা, কর নথিতে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদক সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি, সরকারি জমি দখল, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ঋণ গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত চলছে। এই প্রাথমিক তালিকায় ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত।
অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ টিম ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুমোদিত পাওয়ার প্লান্ট ও ক্যাপাসিটি চার্জ সিস্টেমের সব গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করছে। এতে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প অনুমোদন, আর্থিক লেনদেনসহ বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ মাত্র এক বছরের মধ্যে গুলশানের ‘শান্তা এরিন’ প্রকল্প থেকে ২৪ কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদকের দাবি, এটি ঘুষের অর্থ ছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর স্ত্রী সামা জোহরার নামে ধানমন্ডির আবাসিক এলাকায় ‘শেলটেক শফিক্স টাওয়ার’ ও ‘শেলটেক অন্যানটমা’ প্রকল্পে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তাদের এবং সন্তানদের নামে-বেনামে আরও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানও বিভিন্ন পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি থেকে এক বছরে প্রায় এক কোটি টাকা সম্মানী নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাটসহ তার স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ আছে।
বিপিডিবি’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম-আলবেরুনী সরকারি কর্মকর্তা সত্ত্বেও ২০১৮-১৯ করবর্ষে নিজের ও স্ত্রীর নামে ১৪ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ করবর্ষে ১৩ কোটি ৫০ লাখ, ২০২০-২১ করবর্ষে ৫ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ করবর্ষে ৯৯ হাজার ৫৭১ টাকা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। স্ত্রীর নামে ২০২৪-২৫ করবর্ষে ১৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬৭ টাকা পর্যন্ত অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে। দুদক দাবি করছে, মাসুম-আলবেরুনী ও তার স্ত্রী সেলিনা আরজুর আরও অবৈধ সম্পদ রয়েছে। মোট অপ্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪২ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৮০৯ টাকা।
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতি এখন প্রতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। দুর্নীতি দমন করতে হলে দুদককে আরও সক্রিয় করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি দুদকের কাজ করার স্বাধীনতা আরও বেশি জরুরি। তবে নতুন অধ্যাদেশে বিদ্যুৎ খাতের কোনো দুর্নীতিবাজ আর ছাড় পাবে না।”
জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বিপিডিবির ৩৪তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক বছরের মেয়াদে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি ৩৮তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং তার আগেও পিডিবির সদস্য ও কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সে দায়িত্ব পালন করেন।
পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও পিজিসিবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পিজিসিবির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, পিজিসিবির সাবেক এমডি মাসুম-আলবেরুনী ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মঈন উদ্দীন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (কুমিল্লা জোন)-এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন, যার মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল।
বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে, বিপিডিবির পরিচালক সাইদ একরাম উল্লা ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল)-এর এমডি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। পরিচালক আ ন ম তারিক আবদুল্লাহ গোপালগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং মনিরুজ্জামান পরিচালক হিসেবে বিপিডিবির দায়িত্ব পালন করছেন। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটও তাদের সম্পদ, কর ফাঁকি ও অপ্রদর্শিত আয় খতিয়ে দেখছে।
বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনটি সরকারি প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি বিপিডিবির অধীনে এবং দুটি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে নির্মিত।
এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে আরেক ধরনের অস্বাভাবিক ব্যয় ধরা পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বিপিডিবি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে ৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ গিয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, খুলনার খালিশপুরে ২৩৮ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক একটি কেন্দ্র টানা দুই বছর উৎপাদন না করেও মাসে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পায়। একইভাবে ঘোড়াশালের ১০৮ মেগাওয়াট কেন্দ্র উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশও সরবরাহ করতে না পারলেও মাসে সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ গ্রহণ করছে। দুদক ও এনবিআরের এই অনুসন্ধান বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার বেশি বিল দিয়েছে। মধুমতি বাগেরহাট ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র বছরে উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করেও মাসে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। একইভাবে, রিজেন্ট ঘোড়াশাল, সামিট বরিশাল, ফার্নেস অয়েল, ওরিয়ন মেঘনাঘাট এবং ইউনাইটেড পায়রা কেন্দ্রগুলোও সীমিত উৎপাদন সাপেক্ষে মাসিক কোটি কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে।
পিডিবি ও পিজিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ ও মাহবুবুর রহমান, যাদের গুলশান, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও অবৈধ সম্পদের তথ্য ধরা পড়েছে।
-
পিজিসিবির সাবেক এমডি মাসুম-আলবেরুনী ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা আরজুর, যাদের নামে-বেনামে প্রায় ৪২ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।
-
পিজিসিবির সাবেক এমডি গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মঈন উদ্দীন এবং বিপিডিবির পরিচালক সাইদ একরাম উল্লা, আ ন ম তারিক আবদুল্লাহ ও মনিরুজ্জামান। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটও তাদের সম্পদ, কর ফাঁকি ও অপ্রদর্শিত আয় খতিয়ে দেখছে।
বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারি তিন প্রকল্প, যেগোরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ। এছাড়া, গত ১৫ বছরে বিপিডিবি সরকারি-বেসরকারি কেন্দ্র ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে ৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ গিয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র অংশ সরবরাহ করেও কেন্দ্রগুলো মাসে কোটি কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সাবেক মন্ত্রীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নতুন করে আরও শতাধিক ব্যক্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান চলছে।”
এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের ১৫৬টি কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে দুদক। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত চুক্তিপত্র, অনুমোদন ও অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ২৩ হাজার ৫৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রের পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট, অনুমোদনপত্র এবং বকেয়া বিলসহ সমস্ত বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন শুধু তদন্তের স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং বিচার প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে বিদ্যুৎ খাতের এই বহুল আলোচিত দুর্নীতির চূড়ান্ত পরিণতি। সূত্র: শেয়ার বিজ

