গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করে পুনঃতফসিল করা হয় ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানের মালিকানাধীন একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ। এর কয়েক মাস পরই বুধবার সরকার তাঁকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়—যা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে প্রশ্ন উঠেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মো. মোস্তাকুর রহমানের মালিকানাধীন হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের প্রায় ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বরে পুনঃতফসিল করে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে প্রথম দুই বছর কিস্তি পরিশোধ স্থগিত (গ্রেস পিরিয়ড) রাখা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাবাজারে চাপ এবং সামগ্রিক মন্দার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
ব্যাংকিং সূত্রের নথি অনুযায়ী, হেরা সোয়েটার্স শুরুতে ১৫ বছর মেয়াদ ও কম সুদের হারে পুনঃতফসিল চেয়েছিল। তবে পর্যালোচনার পর ব্যাংক সময়সীমা কমিয়ে ১০ বছরে অনুমোদন দেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতে খেলাপি করপোরেট ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে একটি সমন্বিত বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালা জারি করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করেছিল বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার সরকার মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হন। মোস্তাকুর রহমান এর আগে হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিশেষ শর্তে পুনঃতফসিল করা একজন ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে গেলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সক্রিয় ব্যবসায়ী গভর্নরের দায়িত্ব পেলেন। এতে নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।” এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

