রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করে নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। হাসপাতালের পরিষেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের খাবার ও ওয়ার্ডের পরিবেশ নিয়ে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) সকাল প্রায় ৯টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালটিতে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তাঁরা। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নানা অভিযোগের বিষয়ও শুনেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কতজন চিকিৎসক ডিউটিতে নেই, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে এবং এর জন্য প্রশাসনিক দুর্বলতা বড় কারণ হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালের বিছানা ও পরিবেশের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। কয়েকটি ওয়ার্ডে ছারপোকার সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিত না থাকা একটি বড় সমস্যা। এতে রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশের প্রধান মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখানে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় না থাকায় অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হবে। তখন যদি একই ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

