স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে পুলিশ। টেম্পোস্ট্যান্ড, ফুটপাতসহ পাঁচটি নির্দিষ্ট খাতকে কেন্দ্র করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করে দ্রুতই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং সেই তালিকা ধরে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মোহ তালিকা তৈরি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানের ঘোষণাও দেন। রাজধানী ঢাকা থেকেই এই অভিযান শুরু করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
রাজধানীর বিভিন্ন টেম্পোস্ট্যান্ড, পরিবহন টার্মিনাল, বাজার ও ফুটপাতকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরিবহনশ্রমিক, ফুটপাতের দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে এসব চক্র।
পুলিশ সূত্র বলছে, এলাকা ও কার্যক্রম অনুযায়ী চাঁদাবাজদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে তালিকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিবহন খাত, ফুটপাত, এলাকাভিত্তিক বাজার, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ এবং অটোরিকশা, রিকশা ও টেম্পোস্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি। পাশাপাশি কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং কত টাকা আদায় করা হয়—সেসব তথ্যও তালিকায় যুক্ত করা হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভাতেই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরও এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক বিক্রেতাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বিশেষ শাখা (এসবি) এবং পুলিশের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনসহ একাধিক ইউনিট এ কাজে যুক্ত রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার মো. তারেক জুবায়ের বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকার তালিকা জমা পড়েছে। সব বিভাগের তথ্য একত্র করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং তা পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হলেও চাঁদাবাজদের নিয়ে এ ধরনের বিস্তৃত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নতুন। এবার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ করে পরে তা একত্র করে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে। সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই চাঁদাবাজদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজদের পরিচয়, তাদের কার্যক্ষেত্র এবং আদায়ের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি মব সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং যেকোনো সময় এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে।

