ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশ।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মিনহাজ উদ্দিন আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানির আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করে।
তদন্তে দেখা গেছে, এজাহারে ১নং আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন এবং ৫নং তানভীরুল হক ও ৬নং নূর মোহাম্মদ ডিকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাদেরকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার খালেদ, রুবাইয়াত খালেদ, একরামুল আমিন, মো. আলী হোসেন, মো. আলমগীর কবির মুন্সি, মো. হেমায়েত উল্যাহ, কামরুল হাসান খান, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, মো. কামাল হোডেন হাওলাদার, মাকবুল এলাহী, সৈয়দ আব্দুল আজিজ, তাসলিমা ইসলাম, মোছাম্মৎ সাবিহা খালেক, সারওয়াৎ খালেদ সিমিন, এ কে এম মনিরুল ইসলাম, খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ, মো. মিনহাজ উদ্দিন, মো. আজহার খান, মো. সোহেল খান, মো. সেলিম মাহমুদ, মো. কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আসাদ খান ও মো. রহমত উল্যাহ দেওয়ান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি এমএ খালেক ও নজরুল ইসলাম কোম্পানির নেতৃত্বে থাকাকালীন সময়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে এই অনিয়ম উঠে এসেছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোম্পানির প্রায় ৮৪২ কোটি টাকা সমন্বয় করে নেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত ব্যাংকে রাখা ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার এমটিডিআর আত্মসাতের বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া ৩৬ তোপখানা রোডে জমি ক্রয়ে ৪৫ কোটি, ৭২ কাকরাইলে জমি ক্রয়ে ১১৫ কোটি টাকা গ্রহণ এবং মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ীতে জমি উন্নয়নের ব্যয় দেখিয়ে ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও ৭টি মামলা দায়ের করেছে।

