Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, মার্চ 12, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » নথি, ভাউচার, উৎস কর—সবই কি ধোঁকাবাজি, কি চলছে পিআইবিতে?
    অপরাধ

    নথি, ভাউচার, উৎস কর—সবই কি ধোঁকাবাজি, কি চলছে পিআইবিতে?

    মনিরুজ্জামানমার্চ 12, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলা প্রবাদ যেমন বলে—“শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” বা “এক মিথ্যা ঢাকতে হাজারটা মিথ্যা”—প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর ক্ষেত্রে সেই কথাগুলো যেন বাস্তবের মায়া হয়ে উঠেছে।

    ৫ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে “ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও!” শিরোনামে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে ফারুক ওয়াসিফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ। উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তবুও ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।

    প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ প্রথমে তার ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রিপোর্টটি মিথ্যা। তাঁর ব্যাখ্যা, ওই দুই তারিখে পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তাই সেমিনারের নামে কোনো অর্থ খরচ বা ভাউচার তৈরি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, যে নথি–প্রমাণ কালের কণ্ঠে দেখানো হয়েছে, তা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী পক্ষের জালিয়াতি এবং প্ররোচনায় পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সততা প্রমাণ করতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এরপর ৯ মার্চ পিআইবির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি ই‑মেইলে পৌঁছায়। সেখানে তিনি পুনরায় প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবমাননাকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত দাবি করেন।

    অনুসন্ধানে পাওয়া নথি–প্রমাণ দেখাচ্ছে, ফারুক ওয়াসিফ ও তাঁর দল সত্যিই ন্যক্কারজনক দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে লিপ্ত ছিলেন। তারা যে দাবি করছেন, কোনো সেমিনার হয়নি এবং সেমিনারের নামে কোনো অর্থ তোলা হয়নি, সেটিও নথিপত্র দ্বারা খণ্ডনযোগ্য। পত্রিকায় উল্লেখিত টাকার কথা অন্য তথ্যচিত্র নির্মাণের খরচ হিসেবে নগদে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথি–প্রমাণ সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। এই ঘটনাচক্রে প্রকাশ পায়, দীর্ঘ মিথ্যাচার ও তথ্য ফাঁসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শক্তি দুর্নীতির জাল ফাঁস করতে সক্ষম।

    উৎস কর তদারকি

    ঘেঁটে দেখা যায়, পিআইবির জমা করা উৎস কর নথিপত্রের মধ্যে ৫৩টি ‘অর্থ জমা নগদ স্লিপ’ রয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের খরচ‑সংক্রান্ত বিস্তারিত লেখা আছে—দাওয়াত কার্ড, নাশতা, খাবার, স্টেশনারি, গাড়িভাড়া এবং রিসোর্স পারসন সম্মানী। নথিগুলো পিআইবির পক্ষ থেকে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ সোনালী ব্যাংকের ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল শাখায় জমা দেন। প্রতিটি কপিতে গোলাম মুর্শেদের স্বাক্ষর রয়েছে।

    স্লিপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো মূলত পিআইবির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যয় হওয়া অর্থের বিপরীতে দেওয়া উৎস কর স্লিপ। চালান ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোন অনুষ্ঠান, কোন খাত এবং কত অর্থ জমা হয়েছে। এই ৫৩টি স্লিপের মাধ্যমে দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়েছে। তবে ফারুক ওয়াসিফ প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে পিআইবিতে এমন কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর নথিপত্র এই দাবির উল্টো চিত্র উপস্থাপন করে।

    সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (challanverification.finance.gov.bd/echalan) থেকে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত সেমিনারের খাবারের জন্য পরিশোধিত ছয় হাজার ২৫০ টাকার স্লিপটি সত্য। ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ অনুযায়ী, শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের সেগুনবাগিচা সার্কেলের অধীনে অর্থ জমা হয়েছে। জমাদানকারী হিসেবে স্লিপে  গোলাম মোরশেদ এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

    একইভাবে অন্য একটি খাবারের স্লিপও যাচাই করা হয় এবং তা সম্পূর্ণ সত্যি পাওয়া যায়। তবে, এই খরচের মূল ভাউচার আগেই অনুসন্ধান টিমের হাতে এসেছে। তা ছিল সাজানো ভাউচার, কারণ এই সেমিনারগুলো পিআইবিতে বাস্তবে হয়নি—যা ফারুক ওয়াসিফের দাবি খণ্ডন করে।

    রাজধানীর ১৪/১ শান্তিনগর বাজার রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁ‑তে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের ভাউচার পরীক্ষা করে। বিলের পরিমাণ ৫০০ টাকা প্রতি জন হিসেবে মোট ৭৫ হাজার টাকা। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই ভাউচারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। এই ধরনের ভুয়া বিল‑ভাউচার বানিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য আগের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    পিআইবির কথিত সেমিনারের রিসোর্স পারসন খাতের পাঁচ হাজার টাকার উৎস করও পরীক্ষা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আলোচককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেখানো হয়েছিল। এই ব্যয়ের বিপরীতেও পিআইবি এনবিআরে কর দিয়েছেন, যার ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮১৮০৩। চালান ফরমে অর্থের গন্তব্য, উপলক্ষ ও জমাদানকারী সবাই এক। তবে সেমিনার অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আলোচকদের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ভুয়া—এটি আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কথিত সেমিনারের আলোচকরা এ বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    পরবর্তী ধাপে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কথিত সেমিনারের অন্যান্য খাতের চালান যাচাই করা হয়। দাওয়াত কার্ড প্রিন্ট খাতে ৩ হাজার টাকা, স্টেশনারি ৯ হাজার, ডেকোরেশন ও ব্যানার ৬ হাজার ১০০, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিং ৮ হাজার ৩০০, নাশতা ২ হাজার ৫০০ এবং গাড়িভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রত্যেক খাতের জন্য দুটি চালান ফরম ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত সেমিনারের খরচের বিপরীতে ১৫টি চালান ফরমে মোট ৫০ হাজার ১০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর কথিত সেমিনারের জন্যও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৩টি চালান ফরমে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর প্রদান করা হয়। সব চালানে জমাদানকারী হিসেবে গোলাম মুর্শেদ‑এর নাম উল্লেখ থাকে।

    এই নথিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। ঢাকার আয়কর আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুল হক‑কে কপি পাঠালে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত করেন, “উৎস কর কর্তনের এই চালান অনলাইন ভেরিফিকেশনে সঠিক পাওয়া গেছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে সব চালান পরীক্ষা করে একই সত্যতা নিশ্চিত করে।

    গভীর অনুসন্ধান

    সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধানের পর প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছে, পিআইবির প্রতিটি বিল‑ভাউচারে ব্যবহৃত ফারুক ওয়াসিফ‑সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সঠিক এবং সেই বিলের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

    যাঁদের নাম ও দোকানের নাম ব্যবহার করে বিল তৈরি করা হয়েছিল, তাঁরা স্বীকার করেছেন, এগুলো পিআইবির কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে জালিয়াতি করেছেন। এমনকি ভুয়া বিল-ভাউচারের কারিগর গোলাম মুর্শেদ স্বীকার করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য তার কথোপকথনের অডিও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ করা হয়েছে।

    ফারুক ওয়াসিফ প্রতিবাদলিপিতে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো যুক্তি বা প্রমাণ দেখানো যায়নি। বরং তিনি ‘গোপি বাঘা প্রোডাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি করে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে এই অর্থের লেনদেনের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স প্রদানের প্রমাণ দিতে পারেননি। তদন্তে জানা যায়, খুব সামান্য সম্মানি দিয়ে বাকি পুরো অর্থ নিজেদের ভাগ‑বাটোয়ারার জন্যই এই প্রতিষ্ঠানকে কোনও টেন্ডার, ওয়ার্ক-অর্ডার বা এমওইউ ছাড়া কাজ দেওয়া হয়েছিল।

    ফারুক ওয়াসিফ দাবী করেছেন, তারুণ্যের উৎসবের খাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পিআইবি সেই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ লাখ টাকা আসলেও অনুষ্ঠানের নামে সর্বোচ্চ সাত-আট লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ফারুক ওয়াসিফ ও তার অনুসারীরা ভাগ‑বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি কিছু ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ২৪ লাখ টাকার খরচ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই অনুসন্ধান পিআইবি মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে এনেছে, যা নথিপত্র, স্বাক্ষর যাচাই এবং সরাসরি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। পিআইবিতে বড় কোনো কাজের জন্য সাধারণত টেন্ডার এবং মূল্যায়ন কমিটির মিটিং করার নিয়ম থাকলেও ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত কথিত উৎসব বা সেমিনারের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি বা রেজল্যুশনের তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়ার্ক-অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে কিনা বা চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে কিনা—তার কোনো স্বচ্ছ রেকর্ড নেই। কর্মকর্তাদের দাবি, ডি-নথিতে গেলে এসবের প্রমাণ বেরিয়ে আসত, তাই কৌশলে হার্ড কপিতে ফাইল আটকে রাখা হয়েছে।

    পিআইবির দাবী অনুযায়ী, ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারির উৎসবের খরচ মেটাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো বিধিমালায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের চাঁদা নেওয়ার বিধান নেই। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই চাঁদা নগদ নেওয়া হয়েছে নাকি চেকের মাধ্যমে। যদি নগদ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তির পকেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    পিআইবির সব আয়-ব্যয় ডিজিটাল নথির মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে ফারুক ওয়াসিফ নিজেই প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলোচিত উৎসব বা প্রোগ্রামের কোনো তথ্য ডি-নথিতে সংরক্ষিত নেই। অভিযোগকারীরা বলছেন, ডি-নথিতে ব্যাকডেটে কোনো কিছু করা যায় না এবং একবার নথি ছাড়লে তা ডিলিট করা সম্ভব নয়। জালিয়াতির উদ্দেশ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি হার্ড কপিতে রাখা হয়েছে, যেন পরবর্তী সময়ে তারিখ বা খরচ পরিবর্তন করা সহজ হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ফারুক ওয়াসিফের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৪ লাখ টাকা তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাকি অর্থের উৎস কী, তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। চাঁদা আদায় কীভাবে হয়েছে, মোট কত টাকা উঠেছে, কে কত দিয়েছে, এবং সেই টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে—এই বিষয়গুলোর কোনো সঠিক হিসাব নেই। সাধারণ সরকারি নিয়মে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হ্যান্ডক্যাশে চাঁদা নেওয়ার অনুমোদন নেই।

    পিআইবির সঙ্গে ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’-এর লেনদেনেও গরমিল দেখা দিয়েছে। পিআইবির দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে চার কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু চার কিস্তির ইনভয়েস একই তারিখের—২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। অথচ ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুপী বাঘাকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হতো, কিন্তু পুরো অর্থ ক্যাশে দেওয়া হয়েছে।

    প্রযোজক সৌমিত্র পার্থ বলেছেন, “আমাদের চুক্তি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘুরিয়ে Directorate of Films and Publicity, Information (DFPI) ও পিআইবির মাধ্যমে আগস্টে পেমেন্ট পাই। কোনো ব্যাংকিং মাধ্যম বা চেক নয়, ক্যাশেই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। ২৪ লাখ টাকার বিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে পিআইবি ১৯ লাখ টাকা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোনো টেন্ডার হয়নি, সিঙ্গেল সোর্সেই কাজ পেয়েছি। মূল কাজ ছিল ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্র প্রদর্শন।”

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের লেনদেন ক্যাশে হওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিভিন্ন ধাপে ইনভয়েস অনুযায়ী চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হয়। একই সঙ্গে একটি খাতের টাকা অন্য খাতে দেখানোর সুযোগও নেই।

    ব্যাকডেটে জালিয়াতি :

    সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু হলেও পিআইবিতে তা রিসিভ দেখানো হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। জুন মাসের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেব্রুয়ারিতে ব্যাকডেটেড সিগনেচারের মাধ্যমে রিসিভ দেখানোর বিষয়টি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব নোটশিট ও বিল জুন মাসে তৈরি করা হলেও সেগুলিতে ফেব্রুয়ারির তারিখ বসানো হয়েছে। চেকের পাতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ ও ১০ তারিখ থাকা সত্ত্বেও টাকা তোলা হয়েছে ২৯ ও ৩০ জুন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে টাকা উত্তোলন করার জন্য এই ‘ব্যাকডেটিং’ করা হয়েছে।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট—সম্পাদক নিরীক্ষা অ্যাকাউন্ট। এটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি এবং মূলত ম্যানুয়াল চেক বইয়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

    তথ্যমতে, সরকারি বরাদ্দ (আইবাস++) আসার আগেই অন্য একটি স্বল্প তহবিলের অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম টাকা তোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে শুরুতে মাত্র ৪,৪৬৫ টাকা জমা ছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি বরাদ্দ আসার পর সেই টাকা আবার ওই অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের দাবি অনুযায়ী, পুরো অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা। কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বিল তৈরি করা হয়েছিল। এসব ভুয়া বিল বৈধতা দিতে গোলাম মুর্শেদ তাঁর ব্যক্তিগত টিন নম্বর ব্যবহার করে গত অক্টোবর মাসে অনলাইনে ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পিআইবিতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাকডেটিং এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    এমন বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতেই কাগজপত্র ও প্রতিবেদনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রতিবাদপত্রে আমি ইতিমধ্যেই আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি।” ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি ও সেই ভিত্তিতে সরকারি কোষাগারে উৎস কর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

    ফারুক ওয়াসিফ দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব এবং আরও পাঁচজন বোর্ড মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “তারা সব কাগজপত্র যাচাই‑বাছাই করেছেন, অডিট টিমও সবকিছু দেখেছে। নিজের অবস্থানে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি। অডিট এবং বোর্ড মেম্বারদের যাচাইয়ের পর কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।”

    তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করছে, ফারুক ওয়াসিফ নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রমাণ—ভুয়া ভাউচার, উৎস কর চালান, ক্যাশে লেনদেন এবং ব্যাকডেটেড নথি—সবই তার দাবির বিপরীতে সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করছে। সূত্র: কালের কন্ঠ

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত নীরবতা

    মার্চ 12, 2026
    অপরাধ

    বিভিন্ন কেমিক্যালে তৈরি দুধ-ঘিতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

    মার্চ 12, 2026
    অপরাধ

    ফারইস্টের ৮১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

    মার্চ 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.