নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে আনার পথে বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল গায়েব হওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি। প্রায় ৭২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের পর শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সংস্থাটির একটি তদন্ত দল।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের একটি টিম কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। একই সঙ্গে ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন তারা। তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মো. শফিউল আজম, ব্যবস্থাপক পেয়ার আহাম্মদ এবং প্রকৌশলী কর্মকর্তা কে এম আবদুর রহিম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল বহনকারী কয়েকটি ট্যাংকার ১১ মার্চ কুর্মিটোলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, চারটি ট্যাংকার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়নি। অথচ অফিসিয়াল কাগজপত্রে এসব গাড়ি ডিপোতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ট্যাংকারগুলোর নম্বর হলো—৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গাড়িতে থাকা জেট ফুয়েল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা ডিপোর নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ক্যামেরার ভিডিওও পর্যালোচনা করছেন, যাতে ট্যাংকারগুলোর যাতায়াতের প্রকৃত তথ্য যাচাই করা যায়। একই সঙ্গে ডিপোতে সংরক্ষিত জ্বালানির পরিমাণও মাপা হচ্ছে। পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল আজম জানান, সংবাদ প্রকাশের পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সব তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখার কাজ এখনো চলমান।
জানা গেছে, জেট ফুয়েল মূলত বিমান চলাচলের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে কিছু অসাধু চক্র এটি কম দামে কিনে অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এরপরও অনিয়ম বন্ধ হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল চুরির অভিযোগের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা দেওয়া হয়নি। সবশেষ গত ৮ মার্চ তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

