সরকার বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ কার্যক্রমে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে ১,৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয়’ খাত থেকে সরবরাহ করা হবে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণের চাপ কমাতে এই বরাদ্দ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে। বরাদ্দ অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশোধিত বাজেটে প্রতিফলিত হবে এবং সংশোধিত কর্তৃত্বের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোট ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন কৃষক এই সুবিধা পাবেন।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ঋণ মওকুফের অর্থ ১৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে আটটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক—কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। বাকি সাতটি বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ মওকুফের সব তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই করবে। এরপর নিরীক্ষিত চূড়ান্ত হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারকে পাঠানো হবে। এই হিসাবের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বরাদ্দ অর্থ প্রদান করা হবে।
অর্থ বিভাগ কয়েকটি শর্তও দিয়েছে। খেলাপি হওয়ার পর আরোপিত না হওয়া সুদ মওকুফের জন্য ব্যাংকগুলোকে তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া, ব্যাংকের সাসপেন্স হিসাব থেকে প্রায় ১৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নিজ উদ্যোগে অবলোপন করতে হবে। ঋণ আদায় সংক্রান্ত মামলা থাকলে তা ব্যাংকগুলোকে প্রত্যাহার করতে হবে।

