প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। এত বড় দুই সপ্তাহের রেমিট্যান্স কোনো সময় আগেও হয়নি।
গত বছরের মার্চে একই সময় এই পরিমাণ ছিল ১৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, চলতি মাসের দুই সপ্তাহে আগের বছরের তুলনায় ৫৮ কোটি ডলার বা ৩৫.৬৯ শতাংশ বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৩৩০ কোটি ডলার, যা গত বছরের মার্চে ধরা হয়েছিল। এরপর থেকে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু করে টানা তিন মাস ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসছে। ডিসেম্বরের প্রথম মাসে ৩২২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে।
চলতি মাসের ১৪ দিনে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। ব্যাংকারদের মতে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই রেমিট্যান্স বেশি আসে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে প্রবাসীরা জমানো অর্থ আগেভাগে পাঠাচ্ছেন। আগামী বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা সাত দিনের ব্যাংক বন্ধ থাকাও এই আগাম রেমিট্যান্স পাঠানোর অন্যতম কারণ।
চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২,৪৬৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২২.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ২৬.৮৩ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও বাড়িয়েছে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ ৩৪.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ২৯.৫৭ বিলিয়ন ডলার।

