দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
চারটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য মোট ২৫টি উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) এবং পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) যৌথভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। সংস্থাগুলোর নির্বাহী প্রধানরা পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়বে।
বিডার তথ্য অনুযায়ী, এই রোডম্যাপের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে আরও গতিশীল করা এবং দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। পরিকল্পনায় মোট ২৫টি উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে ১৩টি উদ্যোগ রাখা হয়েছে, যা মোট পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক। বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে রয়েছে ৭টি উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ৫টি উদ্যোগ।
অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় বন্দর আধুনিকায়ন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট বাড়ানো, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিনিয়োগ সহায়তার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পিপিপিএ—এই পাঁচটি সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগসেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমস্যার লক্ষ্যভিত্তিক সমাধান এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে দেশের শিল্পখাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাপিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্লু ইকোনমি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মেরিকালচার এবং রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া, দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি এবং বাস্তবমুখী সংস্কারের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার সময় স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণেও সহায়তা দেওয়া হবে।

