ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। অধিকাংশ কারখানায় ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানায় পরিশোধ হয়েছে। বাকি দুটি কারখানায় এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইভাবে ৯৯.৮১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে এবং চারটি কারখানায় বোনাস দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৈরি পোশাক শিল্প এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৭৩ শতাংশ। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার কমেছে ৬.৭৯ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য হ্রাস পেয়েছে ১.৭৬ শতাংশ।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা শিল্পটির ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
দেশীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকট বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এর মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে উদ্যোক্তারা নানা উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। যেসব কারখানায় আর্থিক সংকট ছিল, সেখানে মালিক, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে বেতন ও বোনাস দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪.০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন আগাম দিয়েছে। ঈদযাত্রায় সড়কে চাপ কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত ছুটি দেবে।
সরকারের সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। তাদের সহযোগিতায় শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি। পাশাপাশি মহাসড়কে নজরদারি জোরদারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগাম শুভেচ্ছাও জানানো হয়।

