আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি আগামী জুনে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক এপ্রিলে ওয়াশিংটনে হবে। সেখানে জুন মাসের কিস্তি মুক্তি এবং বাড়তি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হবে।” তিনি আরও জানান, কর্মসূচির শর্তাবলী দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। “সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব নয়, আমরা আমাদের মতো করে এগিয়ে যাব,” মন্ত্রী যোগ করেন।
ঈদের ছুটির পর সচিবালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে আলোচনার পর এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী। বৈঠকের আগে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের বৈঠকের পরে ঢাকায় একটি আইএমএফ মিশন আসবে। মিশনের প্রতিবেদন পরবর্তীতে আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদে পেশ করা হবে। জুনে পর্ষদ বৈঠক থাকলেও প্রয়োজনে কিস্তি মুক্তি জুলাইয়ে সরিয়ে যেতে পারে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে কর্মসূচির পরিমাণ ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার; বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতি আমরা খারাপ অবস্থায় পেয়েছি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রভূত সংস্কার দরকার। শেয়ারবাজার ও কর–জিডিপি হার সবই কমে গেছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “উন্নয়ন প্রকল্প থমকে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই পরিস্থিতি। আমরা এগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করব। আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে হবে।”
অর্থনীতিকে সুষম ও স্থিতিশীল করতে উদারীকরণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং খরচ কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বললেন, “এগুলি আগামী বাজেটে প্রতিফলিত হবে।”
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নীতিগত বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।”

