Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » গ্রামীণ নারীরা যেভাবে বদলে দিচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র
    অর্থনীতি

    গ্রামীণ নারীরা যেভাবে বদলে দিচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র

    মনিরুজ্জামানমার্চ 24, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    মাসুমার মাংসের আচার যায় দেশের বাইরে।
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    সকালের শিশিরে ভেজা মাঠে সূর্যের প্রথম আলো ফুটতেই শুরু হয় জীবনের আরেকটি দিন। সেই আলোকে সঙ্গী করে নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমে পড়েন কাজের সংগ্রামে। মাটির সঙ্গে মিশে থাকা এই মানুষগুলোর শ্রমেই ঘুরে চলে দেশের অর্থনীতির চাকা।

    গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন নারীরা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছেন। সীমাবদ্ধতা ভেঙে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন সম্ভাবনার দিকে। শুধু দেশেই নয়, অনেকেই নিজেদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববাজারেও জায়গা করে নিচ্ছেন। এতে বদলে যাচ্ছে পরিবার ও সমাজের চিত্র।

    দেশজুড়ে অসংখ্য নারী আজ কর্মের মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরতার গল্প লিখছেন। তাদের সাফল্য অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। প্রতিকূলতার মাঝেও তারা প্রমাণ করছেন, সুযোগ পেলে নারীরাও সমানভাবে অবদান রাখতে পারেন।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৪ শতাংশই নারী। চট্টগ্রামের প্রীতিলতা বা ঠাকুরগাঁওয়ের মাসুমার মতো উদাহরণগুলো এই পরিসংখ্যানকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তাদের পথচলা দেখিয়ে দিচ্ছে, শ্রম ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন সম্ভব।

    দেশ পেরিয়ে বিশ্বে ছড়িয়েছে মাসুমার আচার:

    বগুড়ার কইগাড়ি গ্রামের এক নির্জন প্রান্তে যখন জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল, তখনই নতুন পথের সন্ধান শুরু করেন মাসুমা আক্তার। ২০২০ সালে করোনাকালে স্বামীর চাকরি হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন তিনি। সেই কঠিন সময়েই পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এই নারী উদ্যোক্তা।

    শুরুটা ছিল খুবই ছোট। মেয়ের মাটির ব্যাংক ভেঙে পাওয়া ৩৫০ টাকার মধ্যে ৫০ টাকা ফেরত দিয়ে বাকি ৩০০ টাকা দিয়ে অনলাইনে আলুর চিপস বিক্রি শুরু করেন মাসুমা। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগই ধীরে ধীরে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

    মাসুমার মাংসের আচার যায় দেশের বাইরে।

    ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি পুঁজির। সেই সময় পাশে দাঁড়ান তার মা। ১০ হাজার টাকার সহায়তায় নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পান তিনি। তবে চিপস ও কাপড়ের ব্যবসা যখন গতি হারাতে শুরু করে, তখন নতুন পথ খুঁজে নেন মাসুমা। শাশুড়ির কাছ থেকে শেখা গরুর মাংসের আচারের পুরোনো রেসিপিই হয়ে ওঠে তার সাফল্যের ভিত্তি। মাত্র দুই কেজি মাংস দিয়ে তৈরি প্রথম ব্যাচ অনলাইনে বিক্রি হওয়ার মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু হয় ‘আরএম ফুড কর্নার’-এর। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়তে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতাও পান তিনি।

    বর্তমানে মাসুমা প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ কেজি মাংসের আচার উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। এতে তার মাসিক লাভ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। তার তৈরি পণ্য এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান ও সৌদি আরবসহ ১৭টি দেশে। অনলাইনের মাধ্যমে মূলত প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকেই আসে অধিকাংশ অর্ডার।

    ২০২১ সাল থেকে আচার রপ্তানি শুরু করেছেন জানিয়ে মাসুমা বলেন, এক থেকে দুই মাস পরপর ১৫০ থেকে ২০০ কেজি আচার বিদেশে পাঠানো হয়। নিজের রপ্তানি লাইসেন্স না থাকায় পরিচিত একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে তাকে। তবে বিদেশের বাজারে তার পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু মাংসের আচারেই সীমাবদ্ধ নেই তার উদ্যোগ। গরুর ভুঁড়ি, পায়া, লাচ্চা সেমাই ও ঘি উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন তিনি। এ কাজে স্বামীসহ সাতজন কর্মী তাকে সহায়তা করছেন।

    নিজের পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি মাসুমা এখন দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। তার এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াতে চলতি বছরে প্রবাসী তিন বন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘দেশ বাংলা ডিস্ট্রিবিউটর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে তার উৎপাদিত ১৮টি পণ্য বিপণনের জন্য যৌথভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

    পাহাড়ের নারী উদ্যোক্তা প্রীতিলতা ত্রিপুরা:

    চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার কয়লা গ্রামের ত্রিপুরা পাড়ায় নীরবে বদলে যাচ্ছে এক নারীর জীবন। প্রীতিলতা ত্রিপুরা—যিনি গোলমরিচ চাষ করে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, আশপাশের মানুষের জন্যও খুলে দিয়েছেন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

    মসলার ব্যবহার বহু পুরোনো হলেও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেন প্রীতিলতা। ৪৭ বছর বয়সে এসে তিনি বুঝতে পারেন, সঠিক পরিকল্পনায় মসলাজাত ফসল হতে পারে আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস। সেই চিন্তা থেকেই গোলমরিচের মতো তুলনামূলক অপ্রচলিত ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েন তিনি।

    সংসারে ছিলেন উদাসীন স্বভাবের কৃষক স্বামী। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে পরিবার চালানোর দায়িত্ব নিতে হয় প্রীতিলতাকেই। তাই ঘরে বসে না থেকে নিজেই নেমে পড়েন মাঠে। ধান, লেবু ও আদা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার কৃষিযাত্রা।

    ২০১৮ সালে একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় গোলমরিচ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে ১২৫টি খুঁটিতে চারটি করে চারা রোপণ করেন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ফলনের জন্য। তিন বছর পর, ২০২১ সালে আসে প্রথম সফলতা। সে বছর ২৫ কেজি গোলমরিচ বিক্রি করেন। পরের বছরই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ কেজিতে। গোলমরিচের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল মিলিয়ে গত বছর তার মোট আয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। এই সাফল্যের পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

    প্রীতিলতার হাত ধরে এখন প্রায় ৪০০ চাষি পাহাড়ে গোলমরিচ চাষ করছেন।

    শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি প্রীতিলতা। গোলমরিচ গাছের কাটিং তৈরি করে তিনি অন্যদেরও চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন। তার হাত ধরেই এখন পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৪০০ চাষি গোলমরিচ চাষে যুক্ত হয়েছেন। প্রীতিলতার এই পথচলা দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক উদ্যোগ ও পরিশ্রম থাকলে পাহাড়ি জনপদেও গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

    কেঁচো সারে বদলে গেল রেশমার ভাগ্য:

    বগুড়ার শেরপুরে সংগ্রামের এক ভিন্ন গল্প লিখছেন সুরাইয়া ফারহানা রেশমা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে, এরপর দাম্পত্য জীবনের নানা সংকট সব মিলিয়ে জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন। স্বামীর নেশা ও জুয়ায় জড়িয়ে পড়া তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত চার বছর পর ফিরে আসেন মায়ের কাছে।

    https://images.openai.com/static-rsc-4/4v5A2OKlW5WSYddqj0X-ISOZRd38RTL5GYBPMjkl0Inssez87Iw4Fs7DhsTfoztPUUY0rmKq3Nki8iGCOIPANpoJPUIjQpFangjRB0Un-FzWDgtcIAt4ohlnSnbEaxZwuC-ZHis1FmpO5RGfJlmVpM8jFp2421KMMrT7HPgVF7VJgez2kh3NCfPJWNOU0gNj?purpose=fullsize

    সমাজের প্রশ্ন, পরিচয়ের সংকট সবকিছুই রেশমার ভেতরে তৈরি করে এক ধরনের দৃঢ়তা। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে না পারলে এই প্রশ্নের শেষ নেই। সেই তাগিদ থেকেই নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    মা ও নানির দেওয়া জমিকে পুঁজি করে ২০১৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ নেন রেশমা। ঋণ সহায়তায় শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। মাত্র চারটি রিং দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে সেটিই বড় আকার নেয়। এখন তার তিনটি বড় উৎপাদন প্ল্যান্ট রয়েছে। ‘রেশমা কৃষি উদ্যোগ’ নামে নিজের একটি ব্র্যান্ডও গড়ে তুলেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫০ টন কেঁচো সার উৎপাদন করছেন রেশমা। এসব সার বিক্রি করে মাসে তার আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার উৎপাদিত জৈব সার সরবরাহ হচ্ছে।

    শুধু ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নেই তার কার্যক্রম। স্থানীয় যুবকদের হাঁস-মুরগি পালন, ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি। তার উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৬ জন নারীকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন রেশমা।

    নিজের জীবনের সংগ্রামকে শক্তিতে রূপ দিয়ে রেশমা আজ অন্যদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

    হ্যাপির মিশ্র ফসল উদ্যোগে সাফল্যের গল্প:

    টাঙ্গাইলের পিরগাছা গ্রামের গারো নারী হ্যাপি রেমা আজ নিজ এলাকায় এক অনুপ্রেরণার নাম। স্বামী সেলেস্টিনকে সঙ্গে নিয়ে আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে সীমিত আয়ের কৃষিকাজ করতেন তিনি। তবে ২০২১ সালে স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

    মিশ্র চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি অনুশীলন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পরই বদলে যায় হ্যাপির কৃষিকাজের ধরন। এখন তিনি একই জমিতে সময়ভেদে জি-৯ কলা, লেবু, মিষ্টি কুমড়া, আনারস, পেঁপে, আদা ও হলুদ চাষ করেন। ফলে সারা বছরই কোনো না কোনো ফসল বিক্রি করতে পারেন, যা তার আয়ে স্থিতিশীলতা এনেছে।

    বর্তমানে মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন হ্যাপি। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত করছেন তিনি

    মাছের আঁশে বদলেছে মর্জিনার ভাগ্য:

    পাবনার সদর উপজেলার রানীগ্রামের মর্জিনা খাতুনের গল্পটিও ভিন্ন ধরনের সংগ্রামের। একসময় অন্যের বাড়িতে গৃহসহায়ক হিসেবে কাজ করা এই নারী এখন নিজেই উদ্যোক্তা। মাছের আঁশ ও বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন আয়ের নতুন পথ।

    মাছের আঁশে বদলে গেছে মর্জিনা খাতুনের ভাগ্য।

    মর্জিনা জানান, তার স্বামী ও প্রতিবন্ধী ছেলে স্থানীয় বাজার থেকে মাছের আঁশ ও বর্জ্য সংগ্রহ করেন। সেগুলো পরিষ্কার করে শুকিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই উদ্যোগ থেকেই এখন মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে তাদের। এই আয়ের মাধ্যমেই বদলে গেছে মর্জিনার জীবন। একসময় যিনি সহায়-সম্বলহীন ছিলেন, এখন তিনি জমি কিনে আধাপাকা বাড়ি করেছেন। নিজের পুকুরে মাছ চাষ করছেন, এমনকি বাড়ির পাশেই এক বিঘা জমিও কিনেছেন।

    ভবিষ্যতে এই মাছের আঁশভিত্তিক উদ্যোগকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দিতে চান মর্জিনা। বিশেষ করে গ্রামের নারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন তার লক্ষ্য।

    নিরে ভাগ্যবদল ঠাকুরগাঁওয়ের মাসুমার:

    ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুরে একসময় গৃহবধূ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাসুমা খানম। আজ তিনি জেলার সফল উদ্যোক্তাদের একজন। সীমিত পরিসরে শুরু করা পনির তৈরির উদ্যোগই বদলে দিয়েছে তার জীবনের পথচিত্র।

    মাসুমা জানান, মাত্র ২৭ লিটার দুধ দিয়ে তার কারখানার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মান ও চাহিদা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ঢাকায় তার উৎপাদিত পনিরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তার কারখানায় প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার লিটার দুধ থেকে পনির উৎপাদন হচ্ছে।

    এই উদ্যোগ থেকে মাসে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। তার কারখানায় ১৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে।

    মাসুমার সাফল্য তার পরিবারকেও উদ্বুদ্ধ করেছে। তার সন্তানরাও পনির উৎপাদনের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। পাবনা, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে তারা নতুন কারখানা স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে তার ছোট ছেলের কারখানা আইএসও সনদ অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে। পনির কারখানার আয় থেকেই মাসুমা ঠাকুরগাঁও শহরে একাধিক প্লট কিনেছেন। এখন তিনি উত্তরবঙ্গে নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৪.২ শতাংশই নারী। কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, হস্তশিল্প ও সেবা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখছে।

    ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও ডানিডার অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ছয় লাখ উদ্যোক্তাকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বাজারসংযোগসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    পিকেএসএফের সমীক্ষা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের ৫৬ শতাংশ সদস্য নারী। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশকে কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহার, অনলাইন বিপণন, ব্র্যান্ডিং ও সনদায়ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ, আয় বেড়েছে ৪৯ শতাংশ এবং মুনাফা বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

    পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ যুক্ত আছেন, যার ৯৩ শতাংশই নারী। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে নারীরা টিকে থাকার সীমা পেরিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারেন।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    রাজস্ব খাতের সংস্কার আটকে গেল—স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি কবে পূর্ণ হবে?

    এপ্রিল 6, 2026
    অর্থনীতি

    নির্দিষ্ট ও স্থির করনীতি চায় যৌথ চেম্বারগুলো

    এপ্রিল 6, 2026
    অর্থনীতি

    সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপি ২০ প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশ

    এপ্রিল 6, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.