টানা ১০ দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ক্রমশ কমছে। আজ মঙ্গলবারও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫২ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১.১৯ শতাংশ কমে ৪,৩৪৭ ডলারে নেমে এসেছে। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়ায় সোনার ওপর চাপ বাড়ছে।
গত ৩০ দিনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৮০১ ডলার ৪৭ সেন্ট বা ১৫.৪০ শতাংশ কমেছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও, স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ নেমেছে। জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় থাকা সোনার দাম এখন প্রায় ২২ শতাংশ কম।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ফেডের নীতি সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো। যেহেতু সোনা সরাসরি সুদ আয়ে যুক্ত নয়, তাই ফেডের সুদহার বৃদ্ধির খবর সোনার বাজারে চাপ তৈরি করছে।
বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমিয়ে আনার ফলে স্বল্পমেয়াদি বাজারে ওঠানামা আরও তীব্র হতে পারে। চলমান সংঘাত এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সোনার বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা মূল্য সংরক্ষণের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব আবার বাড়তে পারে।
গতকাল দিনের শুরুতে সোনার দাম চার মাসের সর্বনিম্ন ৪,৯৮ ডলারে নেমে যায়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় সোনার দাম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত বছর সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ২৬ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছাপিয়ে যায় ৫,০০০ ডলার। তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, চলতি বছর দাম ৬,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। সাধারণভাবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে থাকেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও সোনার দাম দ্রুত বেড়েছিল।
চীনের মতো দেশগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাপক সোনা কেনায় দাম বৃদ্ধি পায়। তবে ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন ডলারের দাম সম্প্রতি বেড়ে ৯৯.৩৮৭-এ পৌঁছেছে। মার্চ মাসে ডলার ইনডেক্সের মান ১.৮ শতাংশ বেড়ে মাসিক সর্বোচ্চ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেড আপাতত সুদহার কমাবে না। এছাড়া এশিয়ার বাজারে দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডলারের শক্তি আরও বাড়াচ্ছে।
যেহেতু সোনার লেনদেন ডলারে হয়, ডলার শক্তিশালী হলে সোনার দাম বৃদ্ধি কঠিন হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার দাম ১০ দিন ধরে কমার মূল কারণই এটি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়লে সোনা আবারও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে আপাতত বড় ধরনের উত্থানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

