মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ভৌগোলিকভাবে দূরে হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি থেকে খাদ্যপণ্য বিভিন্ন খাতে এর প্রতিক্রিয়া পড়তে শুরু করেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারের বেশি হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা থাকায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিপিং রুটে অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় শ্রমবাজারের সম্ভাব্য চাপ, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
এ অবস্থায় দেশের বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন সরকারের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা। কারণ, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে গভীর সংযোগের কারণে দূরের যুদ্ধও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি ধাক্কা ও মূল্যস্ফীতি: নতুন চাপের মুখে অর্থনীতি
আধুনিক অর্থনীতিতে জ্বালানি কেবল একটি পণ্য নয়; এটি পুরো মূল্য–কাঠামোর ভিত্তি। বাংলাদেশে এই নির্ভরতা আরও স্পষ্ট, কারণ দেশের জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬৫ শতাংশই তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতাও দ্রুত দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নীতিনির্ধারকদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন উঠেছে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে, নাকি ভর্তুকি বাড়িয়ে রাজস্ব ঘাটতির চাপ নেওয়া হবে।
এই বাস্তবতায় বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এখন সরাসরি দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্যপণ্যের দামে এবং শিল্প উৎপাদন খরচেও। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। শহরের দরিদ্র পরিবারগুলো আয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে। ফলে খাদ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তাদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে ন্যূনতম খাদ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এটি ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি, যেখানে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে পুরো বাজারে মূল্যচাপ তৈরি করে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি শুধু বিদ্যুতের বিল বাড়ায় না; এটি অর্থনীতির সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোকে প্রভাবিত করে। উৎপাদন থেকে পরিবহন সব খাতে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের জ্বালানি সরবরাহকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু সরবরাহের বিষয় নয়; এটি মূল্য স্থিতিশীলতা, শিল্প উৎপাদন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে।
শিল্প, বাণিজ্য ও খাদ্যনিরাপত্তায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষি খাতে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ সরবরাহ করে। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ, পরিবহন, কাঁচামাল আমদানি প্রতিটি ধাপে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খরচ বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক সরবরাহ–শৃঙ্খলের অংশ। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে শুধুই কারখানার বিদ্যুৎ ব্যয় বৃদ্ধি পায় না; আন্তর্জাতিক শিপিং, লজিস্টিক এবং কাঁচামাল পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিকের মতো জ্বালানিনির্ভর শিল্পগুলোও চাপের মুখে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প ইতিমধ্যে উৎপাদনের সময় কমিয়েছে অথবা নতুন অর্ডার নিতে সতর্ক হয়ে উঠেছে। পরিবহন খাতে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়, যা পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই এই চাপ বহন করতে হয়।
কৃষি খাতেও ঝুঁকি একই রকম। দেশের সেচ ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১.৩৪ ডলার পৌঁছেছে। ফলে বোরো মৌসুমে সেচ ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। সার উৎপাদন ও আমদানি খরচও বাড়ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সার আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাজারে সারের দাম ৬.৫ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের মূল কাঁচামাল। ফলে সারের মূল্য ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
ধান, গম ও ভুট্টার মতো খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। কৃষক সেচ ও সার ব্যবহারে কাটছাঁট করলে উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাদ্যনিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের সময় দেখা গেছে, জ্বালানির দাম বাড়লে বায়োফুয়েল উৎপাদনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যার কারণে খাদ্যের সরবরাহ কমে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যায়।
সুতরাং জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পের সমস্যা নয়; এটি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকেও প্রভাবিত করতে পারে। দেশের চলমান খাল পুনঃখনন ও সেচ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও খাদ্যনীতিকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করা অপরিহার্য।
ফলত, শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষিতে জ্বালানি সংকট ইতিমধ্যেই চাপ তৈরি করেছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ–শৃঙ্খলে অস্থিরতা ও কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়ার ফলে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি গুরুতর ঝুঁকি। নীতিনির্ধারকদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য এই সংকট বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই মোকাবিলা করা যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় দীর্ঘদিন ধরে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ লাখ লাখ পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এই আয়ের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল।
আঞ্চলিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্রুত অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। বাস্তবে, রেমিট্যান্স শুধু পারিবারিক আয়ের উৎস নয়; এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা স্থিতিশীলতার একটি প্রধান ভরসা। কিন্তু নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
বৈদেশিক খাতেও চাপ ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার হলেও, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। টাকার অবমূল্যায়ন আমদানি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং মূল্যস্ফীতিকে তীব্র করে। ইতিমধ্যেই দেশের বহিঃঋণ প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বৈশ্বিক সুদের হার ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতাও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজস্ব খাতেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কর-জিডিপির অনুপাত প্রায় ৮ শতাংশ, যা উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম কম। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক নীতির পরিসর সীমিত। জ্বালানি ও সারের ভর্তুকি ইতিমধ্যেই বিশাল অঙ্কে পৌঁছেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে, যা রাজস্ব ঘাটতিকে গভীরতর করবে।
নীতিনির্ধারকদের সামনে কঠিন ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে রাজস্ব স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করভিত্তি সম্প্রসারণ, ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শেষ পর্যন্ত কেবল সাময়িক নীতির ওপর নির্ভর করে না; এটি শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর দাঁড়ায়। শ্রমবাজারের বৈচিত্র্যও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের উদীয়মান শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতাও কার্যকর কৌশল হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্তপারের বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের একটি আঞ্চলিক বাজার গড়ে উঠছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছে, যা এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করছে।
বাংলাদেশও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ভারতের ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। একই বছরের নভেম্বর মাসে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট আমদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেও ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
অতএব, বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন কেবল অর্থনৈতিক নীতির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার।
ইরান যুদ্ধ হাজার মাইল দূরে হলেও তার অর্থনৈতিক ধাক্কা কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তেলের দাম, খাদ্যের খরচ ও প্রবাসী আয় এই তিন সূচকেই সংকটের প্রতিফলন সবচেয়ে স্পষ্ট। সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই সংকট অর্থনীতির দুর্বলতা বাড়াবে, নাকি সংস্কারের সুযোগ তৈরি করবে।
করভিত্তি বাড়ানো, ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারের বৈচিত্র্য এগুলো এখন অপরিহার্য। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কখনোই কাকতালীয় নয়; এটি সচেতন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ফল। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংকট অনেক সময় সংস্কারের সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের সামনে আজ সেই সুযোগ।

