বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। গত অর্থবছর ২০২৪–২৫ সালে বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত ২০২৫ অর্থবছরে নেমে এসেছে ২৮.৫৪ শতাংশে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ৩০.৭০ শতাংশ থেকে কম।
ঘরোয়া সঞ্চয়ও প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট কমে ২১.৯৮ শতাংশে নেমেছে। জাতীয় সঞ্চয়ও একইভাবে নেমে ২৭.৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে ঘরোয়া সঞ্চয় ছিল ২৩.৯৬ শতাংশ, আর জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৮.৪২ শতাংশ।
বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের এই ধীরগতি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে সতর্কতার পরিবেশ তৈরি করছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ২০২৫ অর্থবছরে ২২.০৩ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৪ অর্থবছরে ছিল ২৩.৯৬ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগও সামান্য কমে ৫.৮০ শতাংশে এসেছে, পূর্ববর্তী বছরের ৫.৯১ শতাংশের তুলনায়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল ঘরোয়া চাহিদা অনেক পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের চেয়ে তাৎক্ষণিক খরচকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য করেছে। এছাড়া, উচ্চ সুদের হার এবং মুদ্রার দরবৃদ্ধি (বিবিএস হিসাব অনুযায়ী গড় ডলারের হার ১২০.৮২ টাকা) ক্রেতার বাস্তব ক্রয়ক্ষমতা ও অতিরিক্ত আয় কমিয়ে দিয়েছে।
এ সময় দেশের জিডিপি বৃদ্ধিও ধীর হয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ, যা প্রাথমিক অনুমান ৩.৯৭ শতাংশের চেয়ে কম। এটি ধারাবাহিকভাবে তিন বছর দেশের অর্থনীতির ধীরগতিকে নির্দেশ করছে। খাতভিত্তিকভাবে শিল্পখাতের বৃদ্ধি ৩.৭১ শতাংশে হলেও, সেবা ও কৃষিখাতের বৃদ্ধি যথাক্রমে ৪.৩৫ এবং ২.৪২ শতাংশে সীমিত হয়েছে।
তবে একমাত্র উজ্জ্বল খবর হলো, ২০২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩,৩৪,৫১১ টাকা (প্রায় ২,৭৬৯ মার্কিন ডলার) হয়েছে, যা ২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৩,০৪,১০২ টাকা (২,৭৩৮ মার্কিন ডলার)। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডলারে এই বৃদ্ধি মূলত মুদ্রা মানের সমন্বয় ও নামমাত্র বৃদ্ধির কারণে, যা জীবনমানের সাধারণ উন্নতি নির্দেশ করে না। বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি না হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অনিশ্চিত থেকে যেতে পারে।

