বাংলাদেশের ইস্পাত খাত আবারও সংকটে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে দেশীয় ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও প্লেট দামের নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ হাজার টাকা এবং প্লেটের দাম বেড়ে ৬৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
দুই সপ্তাহ আগে স্ক্র্যাপ জাহাজের দাম ছিল টনপ্রতি ৪১৫–৪৩৫ মার্কিন ডলার; বর্তমানে তা ৪৫০–৪৭০ ডলারে উঠে গেছে। বর্তমান ডলারের বিনিময় মূল্যে এই বৃদ্ধি দেশের বাজারে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকার সমতুল্য।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার পেছনে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা ও জাহাজ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। পাশাপাশি দেশীয় নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কাজের বাড়তি চাহিদা কাঁচামালের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
কে আর গ্রুপের চেয়ারম্যান সেকান্দার হোসেন টিংকু জানান, “বাজার চাঙ্গা থাকলেও আন্তর্জাতিক মূল্যের উত্থান দেশীয় শিল্পকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, সংকট আরও গুরুতর হতে পারে।”
সরবরাহের দিক থেকেও সমস্যা জটিল। বিএসবিআরএ জানায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামের গ্রিন শিপইয়ার্ডে মাত্র ১৫টি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার জন্য এসেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে সংখ্যা ছিল ৩৩টি। কম আমদানির কারণে কাঁচামাল সরবরাহের চাপ বেড়েছে।
জাহাজ কর্তনের উৎপাদনেও জ্বালানি সংকট বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। গ্রিন শিপইয়ার্ড যন্ত্রনির্ভর হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।
আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেডের বিজনেস ম্যানেজার মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, “প্রতিদিন চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে ৩০–৫০ টনে নেমেছে, যেখানে আগে প্রতিদিন ৩০০–৩৫০ টন হতো। বর্তমানে ৩০ হাজার টনের তিনটি জাহাজ কাটার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে রড, বিলেট, প্লেটসহ পুরো ইস্পাত খাত প্রভাবিত হবে। নির্মাণ ব্যয় বাড়বে, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান চাপে পড়বে, এবং বাজারে নতুনভাবে মূল্যচাপ তৈরি হবে।

