বাংলাদেশে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ২৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে এটি ছিল তিন লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মেয়াদি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
শিল্প খাতে এই ঋণ বৃদ্ধির মধ্যেও আদায়ও বেড়েছে। গত বছর মোট এক লাখ ১৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বা ২৪ শতাংশ বেশি। তবে একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শিল্প খাতে মোট ৯৯ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর আগের বছর বিতরণ হয়েছিল ৯৪ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এক বছরে বিতরণ বেড়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে সরকারি নীতির প্রভাবও রয়েছে। বেসরকারি তথ্য মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খেলাপি ঋণ কম দেখাতে বিভিন্ন ব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নির্দেশনায় শিল্পের মেয়াদি ঋণে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রান্তিক থেকে সব মেয়াদি ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই শ্রেণিকৃত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর ফলে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ঋণের ৪৩ শতাংশ বিতরণ হয়েছে শিল্প খাতে। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর আগের বছর শিল্প খাতের মোট ঋণ ছিল ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ, খেলাপি ছিল ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ। সব খাত মিলিয়ে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
শিল্প খাতের ঋণ বাড়লেও আদায় বেড়েছে কিন্তু খেলাপির অভাব দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

