বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৬৩ কোটি টাকা, যা আগের মাস ডিসেম্বরের ৪৯১.২ কোটি টাকার তুলনায় ৫.৭৪ শতাংশ কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অ্যান ওভারভিউ অব কার্ড ইউজেজ প্যাটার্নস উইদিন অ্যান্ড আউটসাইড বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যয় কমলেও দেশভিত্তিক ব্যয়ের চিত্রে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে থাইল্যান্ড। এ দেশে ব্যয়ের পরিমাণ ৬৯.৪ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের ৬৪.৯ কোটি টাকা থেকে বেড়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানুয়ারিতে সেখানে ব্যয় হয়েছে ৬৭.৫ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের ৬৮.২ কোটি টাকার তুলনায় সামান্য কম। তৃতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের মাসে ছিল ৪৪.৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের ব্যয় সামান্য বেড়ে ৩৮.৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে ভারতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ডিসেম্বরের ৩৫.১ কোটি টাকা থেকে জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮.৫ কোটি টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একসময় ভারত ছিল বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের প্রধান গন্তব্য। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি বাড়ায় ভারতে যাতায়াত কমেছে, ফলে অন্যান্য দেশে ব্যয়ের প্রবণতা বেড়েছে।
প্রতিবেদনটিতে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। জানুয়ারিতে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে ব্যয় হয়েছে ৩৫.০ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪.৪ কোটি টাকা, চীনে ৩৩.৫ কোটি টাকা এবং ভারতে ২৭.৯ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে, বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের ধরণে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে ভ্রমণ ও ভিসা সংক্রান্ত পরিস্থিতি এই ব্যয়ের প্রবণতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

