সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন খসড়ায় ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শনের ওপর থাকা বিধানও খসড়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-কে আরও কঠোর করতে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছিল। এতে ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তবে, সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন সেই অধ্যাদেশের কিছু ধারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করছে। খসড়া শিগগিরই লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ই-সিগারেটকে ‘ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’-এর প্রধান ধরন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারকারী ও আশেপাশের অধূমপায়ীর জন্য ক্ষতিকর।
‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস’-এর বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, “তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ তরুণদের সুরক্ষার স্বার্থে এটি নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “একটি জরিপে দেখা গেছে ৮৮ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে সিগারেট শিশুদের চোখের উচ্চতায় রাখা হয়। এছাড়া ৬৬ শতাংশ দোকানে শিশুদের আকৃষ্ট করতে ক্যান্ডি বা মুখরোচক খাবারের পাশেই তামাকজাত পণ্য রাখা হয়। তাই বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা অবশ্যই বজায় রাখা উচিত।”
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি অধ্যাদেশ সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশোধনীর মূল পরিবর্তনসমূহ:
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর অনুমোদিত অধ্যাদেশে তামাকজাত পণ্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছিল। এতে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং অন্যান্য নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
অপরাধী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে। অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে দণ্ডের হার দ্বিগুণ হবে। কোম্পানি দোষী হলে পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং মালিক বা ব্যবস্থাপককে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যেতে পারে। পুনরাবৃত্তি ঘটলে কোম্পানির তামাক উৎপাদন ও বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
অধ্যাদেশের ৫(ক) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছিল, সরাসরি বিক্রি ছাড়া তামাকজাত পণ্য ও মোড়ক দর্শনের আড়ালে রাখতে হবে। তবে খসড়া অনুযায়ী এই বিধানও বাতিল হওয়ার পথে।

