চলতি বছরের জুলাইয়ে ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকার থেকে সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
গত রোববার (২৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, “ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।” এক ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, অর্থ বিভাগ দুই ধাপে অর্থ প্রদান করবে। প্রথম ধাপে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ৩,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপের অর্থ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে ব্যক্তি খাতের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা। এরপর আদালতের কাছে লিকুইডেশনের আবেদন করা হবে। গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড ছয়টি প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই বৈঠকে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়।
অবসায়নের তালিকায় থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো: ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো: বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
দেশে বর্তমানে ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসবের মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ২০ প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫,৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১,৪৬২ কোটি টাকা খেলাপি—মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ। বিপরীতে তাদের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬,৮৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭.৩১ শতাংশ। 지난해 এসব প্রতিষ্ঠান ১,৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬,১৮৯ কোটি টাকা।
সমস্যাগ্রস্ত ২০ প্রতিষ্ঠানেই মোট আমানত রয়েছে ২২,১২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের নিট ব্যক্তি আমানত প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, অবসায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই অর্থের জোগান প্রয়োজন হবে।

