বেক্সিমকো গ্রুপের ‘সুকুক বন্ডে’ বাধ্য হয়ে বিনিয়োগ করা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, সে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরে এ বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে তার আগে যদি বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না যায়, তাহলে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের অর্থ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত আমানত সংগ্রহ করতে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা দুটি বিকল্প পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমটি হলো–বন্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়টি– বিনিয়োগের টাকায় নির্মিত তিস্তা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বিক্রি করা।
বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সিংকিং ফান্ড’ও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তহবিল থেকে বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইসতিসনা’ ছিল দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে ইস্যুকৃত সুকুক বন্ড। শুরুতে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে বেশ কয়েকবার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। তখন বন্ডে বিনিয়োগ করতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা–বিএসইসি নির্দেশ দিলে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংক মিলিয়ে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।
সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকে ‘পুঁজিবাজার এক্সপোজারের’ বাইরে রাখার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে এই বিনিয়োগে অংশ নিতে বাধ্য করেছিল। বর্তমানে ২৭টি ব্যাংক, যারা সুকুক বন্ডে ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগান দিয়েছে, তারা বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি হতাশার মুখে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুকুক বন্ডে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ ও বিনিয়োগের গল্প:
বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে বাজারে আসে দেশের প্রথম বেসরকারি শরীয়াহ সুকুক বন্ড। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা–বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করে আরও কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি ও ১১ ব্যাংকের পার্পেচুয়াল বন্ডের জন্য।
সেই বছরের মধ্যে ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইসতিসনা’ অনুমোদন পায় তিন হাজার কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের জন্য। বন্ডের উদ্যোক্তা ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ। এর ট্রাস্টি করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
ইস্যু উপদেষ্টা ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নেন সিটি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স লিমিটেড। সহযোগী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করে অগ্রণী ইক্যুয়িটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। অবলেখনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল অগ্রণী ইক্যুয়িটি, এবি ইনভেস্টমেন্ট ও এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বলা হয়, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের ফেসভ্যালু বা অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা। বন্ডের অর্থ দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের জন্য রাখা হয়েছে। এর একটি গাইবান্ধার তিস্তা ২০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট; অন্যটি ৩০ মেগাওয়াট সক্ষমতার করতোয়া সোলার লিমিটেড। তিস্তা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। এছাড়া বন্ডের অর্থ বেক্সিমকোর বস্ত্র খাতের কারখানা সংস্কার, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও সরঞ্জাম কেনার জন্যও ব্যয় হওয়ার কথা ছিল।
সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ টানতে হঠাৎ বেক্সিমকোর মুনাফা বৃদ্ধি দেখানো হয়। অনুমোদনের আগের অর্থবছর (২০২০-২১) কোম্পানির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৪০০ শতাংশ বেড়ে ৬৬০ কোটি টাকা দেখানো হয়। পরের অর্থবছর (২০২১-২২) মুনাফা আরও বেড়ে ১২৫৪ কোটি টাকা হয়। অনুমোদন পাওয়ার পরের বছর থেকে সংকট দেখা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৩৬ কোটি টাকার লোকসান জানিয়েছে ডিএসইতে।
শুরুর দিকে সুকুক বন্ডের কুপন হারও ছিল উচ্চ, প্রায় ১২ শতাংশ, যা সেই সময়ের ট্রেজারি বন্ডের ৩.৯২ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বন্ডটি খুবই লাভজনক দেখাচ্ছিল। তবুও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়। শেষ ধাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি। বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগাদা দিয়ে বলা হয়, ব্রোকারেজ কোম্পানিগুলোর ডিলার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ না করলে সমস্যায় পড়বে।
ডিবিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাইসেন্স পাওয়া ব্রোকারেজ কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগ ৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর বিএসইসি ৫ হাজার কোটি টাকার ৩ শতাংশ হারে বন্ডে বিনিয়োগের নির্দেশ দেয়। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। একই চিঠিতে বেক্সিমকো সুকুক ও অন্যান্য বেসরকারি ১১টি ব্যাংকের পার্পেচুয়াল বন্ডের তালিকা দেখানো হয় এবং সব বন্ডকে বাধ্যতামূলকভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডিএসই ও বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, তখন শুধুমাত্র বেক্সিমকো সুকুকসহ তিনটি বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। চিঠি পাওয়ার পর সব ব্রোকারেজ কোম্পানি মোট বিনিয়োগের ৩ শতাংশ হারে বেক্সিমকো সুকুক বন্ডে অংশ নেয়। এভাবে দেড়শ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয় বন্ডে।
পরে বিএসইসি সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককেও ব্যবহার করে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নীতিমালায় বিশেষ ছাড় দিয়ে ঋণ গ্রহণ করে বিনিয়োগকে ‘পুঁজিবাজার এক্সপোজারের’ বাইরে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত ২০২৩ সালের আগস্টে এই নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়, যাতে তারা বেক্সিমকো সুকুক বন্ডে আরও বিনিয়োগ করতে পারে।
এই প্রক্রিয়ায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় ব্যবহার করে সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ টানা হয়। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, লোকসান হলে কি এর দায় নেওয়া হবে বিএসইসির। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, “বিএসইসি মার্কেট সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগে বৈচিত্রতা আনতে মোট বিনিয়োগের ৩ শতাংশ বন্ডে বিনিয়োগ করতে বলেছে। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত যিনি নেবেন, তিনি নিজে নেবেন। সরকারি বন্ডও বাজারে আছে। কোনো নির্দিষ্ট বন্ডে বিনিয়োগের নির্দেশ দিলে কমিশন তার দায় নেবে না।’’
তবে বিএসইসির চিঠিতে কেন ১১টি ব্যাংকের বন্ড ও সুকুক বন্ডের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। চিঠি দেওয়ার সময় বাজারে সরকারি কোনো বন্ড লেনদেন শুরু হয়নি। বেসরকারি পর্যায়ে তখন মাত্র তিনটি বন্ড তালিকাভুক্ত ছিল। ফলে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সীমিত ছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ২০২৪ সালের চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের অনুপস্থিতিতে গ্রুপের কোম্পানিগুলো তীব্র অর্থসংকটে পড়েছে। পরিচালন খরচ মেটানোসহ ব্যবসা চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে বন্ডের প্রতি ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন।
সুকুক ও করপোরেট বন্ডে ব্যাংকের বড় লোকসান:
সুকুক বন্ডের পরই বেক্সিমকো গ্রুপের আরেক করপোরেট বন্ড ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ বাজারে আসে, যার মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা। এই দুটি বন্ডে ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশীদারি ছিল ৭৫ শতাংশ। ২০২২ সালে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো সুকুক বন্ডটি ইউনিট প্রতি ৯৮ টাকায় কিনেছিল। বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু ছিল ১০০ টাকা। কিন্তু সর্বশেষ ২৪ মার্চ ডিএসইতে বন্ডটির দাম ছিল ৬২ টাকা।
ফলে ৯৮ টাকায় বন্ড ক্রয় করা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংক যারা এখনো বন্ড বিক্রি করেনি, তারা বড় অঙ্কের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ৮১ টাকা। এভাবে ব্যাংকের বিনিয়োগ মূলধন এক তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে গেছে।
মুনাফা ও শেয়ার রূপান্তরের সুযোগ:
সুকুক বন্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে পর্যায়ক্রমে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছিল। প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকত, যা ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ হিসেবে ভাগ করা। যদি কোনো বছর রূপান্তরের সুযোগ গ্রহণ না করা হয়, তা পরবর্তী বছরে করা যায়।
যারা শেয়ারে রূপান্তর করতে চায়নি, তাদের বন্ড পাঁচ বছরের মধ্যে অবসায়ন হবে। এ পর্যন্ত শেয়ারে রূপান্তর খুবই সামান্য হয়েছে। এরপর ২০২৪ সালে ‘আইএফআইসি গ্যারান্টিড শ্রীপুর টাউনশিপ জিরো কুপন বন্ড’ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তোলা হয়, যা আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য পরিকল্পিত ছিল।
২০২১ ও ২০২৪ সালে ইস্যু করা দুটি বন্ড থেকে বেক্সিমকো গ্রুপ মোট ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সঠিক খাতে ব্যবহৃত হবে কি না, তা শুরু থেকেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। গত বছরের ৫ অগাস্টে পট পরিবর্তনের পর আর্থিক খাতের নেতৃত্বে নতুন মুখ আসায় বিতর্কের জন্ম দেওয়া দুটি বন্ডের বিনিয়োগ খাতের বিষয়টি বিএসইসি তদন্তে নেয়। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের মাধ্যমে ৭৫০ কোটি টাকা চাওয়া হলেও শুরুতে মাত্র ৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। পরে ব্যাংক ও ব্রোকার প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হয় কিনতে।”
তিস্তা সৌর বিদ্যুৎ ছাড়া সুকুক বন্ডে আয় নেই:
বেক্সিমকো গ্রুপের সুকুক বন্ডে একমাত্র আয়ের উৎস হচ্ছে গাইবান্ধার তিস্তা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। প্রতি মাসে ৫০ কোটি টাকার আয় হয়, যার ৭–৮ কোটি টাকা ব্যয় হয় পরিচালন খাতে।
গত অগাস্ট থেকে অবশিষ্ট অর্থ ট্রাস্টি হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সংগ্রহ করছে। আইসিবির কাছে ঝুঁকি সামাল দিতে আয়ের অংশ জমা রাখার শর্ত ছিল। বর্তমানে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইসিবির কাছে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকার তহবিল জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই অর্থ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সুকুকের উদ্যোক্তা বেক্সিমকো লিমিটেড বর্তমানে লোকসান ভুগছে।
আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, “আগে তারা (বেক্সিমকো) খুব কম টাকা জমা দিত। মাত্র ২০ লাখ টাকার মতো দিয়েছিল। এখন আমরা উদ্যোগী হয়ে আয়ের পুরো অংশ নিচ্ছি। ট্রাস্টি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াই আমাদের কাজ। আয়ের পুরো অংশ ‘সিংকিং ফান্ডে’ জমা হচ্ছে, যাতে টাকা ফেরত দেওয়া যায়।”
মেয়াদ শেষে টাকা ফেরতের বিকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, “যেহেতু আয়ের উৎস এবং অ্যাসেট (তিস্তা সৌর প্রকল্প) আছে, তাই বন্ডের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। মেয়াদ বাড়ালে বিনিয়োগকারীরা মুনাফার হার পরিবর্তনের দাবি তুলতে পারেন। বিষয়টি অবশ্যই আলোচনা করা যেতে পারে। সিংকিং ফান্ড থেকে অংশের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব।”
ডিবিএর আপত্তি ও ব্যাংকের পদক্ষেপ:
বন্ডে বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের সার্কুলার এখনো বলবৎ রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সার্কুলারটি প্রত্যাহারের দাবি তুলবে, যাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর হাতে থাকে। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “টাকা যার, সিদ্ধান্তও তারই। এখানে সব কিছু জোর করে করা হয়েছে। বিনিয়োগ করে যারা লোকসানে আছেন, তাদের দায়ভার কি কেউ নেবে? তাই সার্কুলার প্রত্যাহার চাই।”
একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা ২৭ ব্যাংকের বিনিয়োগ বাঁচানোর পরিকল্পনা করেছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুটি বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে:
- বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো, বিএসইসির কাছে চিঠি প্রেরণ করা।
- উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পেলে তিস্তা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বিক্রি করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “ব্যাংকগুলো চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখতে পারে। সার্কুলার প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রয়োজন হলে পর্যালোচনা করা হবে।”
বেক্সিমকোর অবস্থান:
বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার বলেন, তিস্তা সোলার প্রকল্পের সঙ্গে সরকারের সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি আছে। প্রায় চার বছর হলো। প্রকল্পের ভ্যালু বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকা। বিক্রি করলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব। এখন দুঃসময় চলছে। বেক্সিমকো টিকে থাকার চেষ্টা করছে। সহযোগিতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াটা সমস্যা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সুকুক বন্ডে বেক্সিমকোও বিনিয়োগ করেছে। প্রকল্প থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ বেক্সিমকোরও হওয়া উচিত। কিন্তু আয়ের কোনো অংশও বেক্সিমকোর হাতে আসছে না; সব আইসিবির কাছে যাচ্ছে। বেক্সিমকো কিছুটা অংশ পেলে চলতে পারত।”

