অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তা দেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।”
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে আসন্ন বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচিত সরকারের সামনে বর্তমানে তিনটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, নতুন সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের রাজস্ব আদায় তথা কর–জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম। তৃতীয়ত, নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। আমরা কীভাবে সম্পদ আহরণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর প্রবণতা থেকে সরকার বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা না করতে পারলে কর–জিডিপির অনুপাত বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর। টাকা ছাপানোর পরিবর্তে আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যাতে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়।”
বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য নীতি স্থিতিশীল রাখার কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নীতি অপরিবর্তিত থাকবে। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বড় ধরনের ‘ডিরেগুলেশন’ করা হবে। আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন প্রধান লক্ষ্য।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির অনুসন্ধান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “এই ধরনের অনুসন্ধান চালু রাখার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শুধু একটি বিষয় নয়, বিভিন্ন দিকের সব অনুসন্ধান পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
আগামী বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লক্ষ্য সমাজের বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনা। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বজায় থাকবে। বাজেট প্রণয়নের সময় এই টাকার সংস্থান আগে রাখা হবে। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না; তাদের পাওনা নিশ্চিত করেই বাজেট সাজানো হবে।”

