চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি কমেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সর্বশেষ চিত্রে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ব্যয়ের পরিমাণ যেমন কমেছে, তেমনি বাস্তবায়নের হারও প্রত্যাশার তুলনায় নিচে রয়েছে।
বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যে জানা যায়, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এই ব্যয় এডিপির মোট আকারের ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এবার খরচ কমেছে ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। তবে প্রথম আট মাসের হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্প বাছাইয়ে কঠোরতা ও ব্যয়সংযমের নীতি যুক্ত হওয়ায় বাস্তবায়নে ধীরগতি এসেছে।
এদিকে কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিত্র আরও দুর্বল। সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও আট মাসে এক টাকাও খরচ হয়নি। ফলে এই বিভাগের বাস্তবায়ন হার শূন্যে রয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, অর্থবছরের দুই-তৃতীয়াংশ সময় পার হলেও পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ১০ শতাংশও খরচ করতে পারেনি। এগুলো হলো—সংসদবিষয়ক সচিবালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), জননিরাপত্তা বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সামগ্রিক চিত্র বলছে, উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি অর্থনীতির গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা না গেলে বছরের শেষ দিকে চাপ আরও বাড়তে পারে।

