মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা সাধারণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা আগাম ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, হঠাৎ সংকটে পড়ার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
কৌশলগত খাতে সংস্কারের প্রয়োজন:
শিল্পোদ্যোক্তারা আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্প জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি তারা সহনীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন।
শিল্পোদ্যোক্তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন ভ্যাট আহরণ বাড়াতে খাতভিত্তিক তদারকি জোরদার করা, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা। তারা বৈচিত্র্যময় সোর্সিং নিশ্চিত করতে এবং বিদেশে বাণিজ্যিক দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় অপরিহার্য। তারা জোর দিয়েছেন স্থানীয় সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহার করার ওপর। কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, স্পিরিটের পরিবর্তে ইথানল উৎপাদন করে তা প্রচলিত জ্বালানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভোলা থেকে সার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গ্যাস সিএনজি বা মাইক্রো-এলএনজি আকারে সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলপিজিকে সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস হিসেবে ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন সচল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ শিল্পপতির মন্তব্য:
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের অগ্রিম প্রস্তুতিতে জ্বালানি সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। কারণ অর্থনীতির সব খাতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সরাসরি জড়িত। সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে, এটা ভালো উদ্যোগ। তবে উৎস আরও বাড়ানো প্রয়োজন। হয়তো পেমেন্ট বেশি লাগবে, কিন্তু অর্থনীতি ঠিক রাখতে এটা করতে হবে। পৃথিবীর ২০ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে। ফলে অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া গেলে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে বাকি পদক্ষেপগুলোও সহজ হবে।”
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তারা জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য মজুদ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। তারা মনে করছেন, সহনীয় মূল্যস্ফীতি নিশ্চিত করতে বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত বা ‘আনম্যানেজেবল’ মূল্যস্ফীতির পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে একটি ‘ম্যানেজড ইনফ্লাশন’ অর্থনীতি প্রবর্তন করা উচিত। এতে আকস্মিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে। জনগণকে আগেভাগে সচেতন করতে হবে, যাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ মেনে নেওয়া যায়।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এলপিজির দাম টনপ্রতি প্রায় ৪০০ ডলার বেড়েছে। এই ধরনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে এলএনজি, এলপিজি ও ক্রুড অয়েলের সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিবেচনা করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে তিনি জোর দিয়েছেন। মোস্তফা কামাল উল্লেখ করেন, “মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করলে প্রভাব কমানো সম্ভব। স্থির আয়ের মানুষের আয় না বাড়লে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে ভোগ কমে যাবে, স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে যাবে এবং জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা:
খাদ্যনিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতিমূলক অবকাঠামো থাকে। ফুয়েল বা খাদ্য সংকট হলে সরকার সরবরাহ নিশ্চিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ থাকে, যেখানে উন্নত দেশে থাকে ছয় মাস থেকে এক বছর। আমাদেরও এই ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে এবং দূরদর্শী হতে হবে।”
শিল্পোদ্যোক্তারা রিজার্ভের একটি অংশ খাদ্য মজুদে রূপান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য আমদানি করা যেতে পারে। বছরে ৩০–৬০ লাখ টন চাল আমদানির অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারি মজুদ ৭০–৮০ লাখ টনে উন্নীত করলে একটি ‘ফুড স্টক পাইল’ তৈরি সম্ভব, যা সংকটের সময় বাফার হিসেবে কাজ করবে।
শীর্ষ উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে খাদ্য আমদানি কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষি খাতে নির্ভরতা বাড়িয়ে সার ও জ্বালানির সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় ও রফতানিমুখী শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা, স্থানীয় শিল্প এবং রফতানিমুখী শিল্প—এই তিনটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “এখন একটি সংকটময় মুহূর্ত বিরাজ করছে। আগামীকাল কী হবে আমরা জানি না। স্বল্পমেয়াদে কী করা লাগবে তা দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। এরপর মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।”
বাণিজ্যিক সমন্বয় ও রাজস্ব বৃদ্ধির প্রয়োজন:
যেকোনো পণ্যের দামের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সমন্বয় জরুরি। ভর্তুকির বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। সরকার যত দিন ভর্তুকি দেবে, অর্থনীতি ততই প্যারালাইজড হবে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতকেও উৎসাহিত করতে হবে শক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য।”
উদ্যোক্তারা অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে ভ্যাট প্রশাসনে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশের মোট ব্যবসার ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র ২০ শতাংশ বড় কোম্পানি। স্টিল, সিরামিক, সিমেন্ট, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামসহ ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে বড় কোম্পানিগুলোর ওপর ‘কন্টিনিউয়াস রিকনসিলিয়েশন’ বা নিবিড় তদারকি চালালে রাজস্ব আহরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে এবং রাজস্বে শৃঙ্খলা ফিরবে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “প্রথমেই সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ স্বীকার করতে হবে। এটি স্বল্পমেয়াদি নয়; বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোনে আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সমন্বয়ে সরকারের একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়েছে। এতে বেকারত্ব বেড়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রভাব দেশের ওপর পড়ছে। জ্বালানির ব্যয় বেড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে। রফতানি আয়ে ধাক্কা পড়ায় ডলার সরবরাহ কমে গেলে জ্বালানি তেল ও কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হতে পারে। তাই বর্তমান ডলার প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বাজেট ও নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সংস্কার:
উদ্যোক্তারা সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর সমন্বয় জরুরি মনে করছেন। বর্তমানে দেশে ৪২–৪৩ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বিতরণ কার্যক্রম দক্ষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি কার্ড বা ডিজিটাল ডেটাবেজের মাধ্যমে ২০ শতাংশ অতিদরিদ্র মানুষকে জেন্ডার ও ডেমোগ্রাফি অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ করে সরাসরি সহায়তা দিলে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আর্থিক খাতে নৈতিকতা ও সংস্কারের বিষয়ে উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ বা ব্যবসায়ীদের ঢালাও দায়মুক্তি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। কর ফাঁকি ও অব্যাহতি বন্ধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থা তৈরি করলে অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরে আসবে।
শিল্প খাত সচল রাখতে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ তহবিল গঠন বা অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান। তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান উচ্চ সুদহার শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম ও প্রো-অ্যাক্টিভ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, “যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এরপর চূড়ান্তভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জ্বালানির দাম ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে বেড়েছে এবং এর প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়বে। শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মূল্য সমন্বয় কতটা এবং কীভাবে করা হবে তা নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি সতর্ক করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে অনেক শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, যা টিকে থাকা কঠিন করে তুলতে পারে। এ অবস্থায় জ্বালানি খাতে আরোপিত কর ও শুল্ক কমানোর বিষয় বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যেই তেলের ওপর কর কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।
কামরান তানভিরুর রহমান আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তা আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে কিনা তা অনিশ্চিত। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা দেশের রফতানি খাতকে চাপে ফেলতে পারে। দেশীয় অর্থনীতিতেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে; সেগুলো কার্যকর করতে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা জরুরি।
শিল্পোদ্যোক্তারা জ্বালানি বা খাদ্যের আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্টে একক উৎসের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এসব মিশনের মাধ্যমে নতুন সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। জনগণকে পরিস্থিতির বাস্তবতা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটার জন্য সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এই ধরনের বহুমুখী উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটজনিত নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “আমরা সরকারের কাছে যেটা প্রত্যাশা করি, সেটা মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এটি সুরক্ষিত করার জন্য আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং অবশ্যই তা স্থায়ীভাবে করা প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে ঝুঁকি কমানোর জন্য উৎস বৈচিত্র্য জরুরি। আমদানিনির্ভরতা যতদিন থাকবে, ততদিন এই বিষয়টিতে জোর দিতে হবে।”
মাহমুদ হাসান খান দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ভোলার গ্যাস কীভাবে মেইনস্ট্রিমে আনা যায়, তা দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের যে চুক্তিগুলো বাতিল হয়েছিল, সেগুলো সম্ভব হলে পুনরায় রি-নেগোশিয়েট করে চূড়ান্ত করতে হবে। কারণ সরকারের যে কোনো চুক্তি নিরাপদ বা টেকসই না হলে বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বাজেটে আমাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো গ্রহণ করা হবে এই প্রত্যাশা রয়েছে।”

