চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এই আট মাসে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত আট মাসে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩০.৩১ শতাংশ। শেষ চার মাসে অবশিষ্ট ৬৯.৬৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করা এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত আট মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
যদিও একক মাসের হিসাব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে। ওই মাসে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসের ৭ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি।
সরকার প্রায় প্রতিবছরই এই ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে এই বিভাগগুলোর জন্য বরাদ্দের হার মোট এডিপির ৭১ শতাংশ। আইএমইডির প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এডিপি ব্যয় মাত্র ২০.৭৬ শতাংশ। মোট বরাদ্দ ৮,০৫৪ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১,৬৭২ কোটি টাকা। ছয়টি প্রকল্পের জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নও প্রায় একই ধরনের ধীর ছিল।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ও প্রায় সমান গতিতে এগোচ্ছে। আট মাসে ব্যয়ের হার ২০.৭৯ শতাংশ। মোট ব্যয় হয়েছে ১,০২৪ কোটি টাকা, বরাদ্দ রয়েছে ৪,৯২৪ কোটি টাকার। সাতটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিল মন্ত্রণালয়টি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। আট মাসে এডিপি ব্যয়ের হার ২১.০৮ শতাংশ। মোট বরাদ্দ ৩,১২৮ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৬৬০ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতির প্রধান কারণ হলো প্রশাসনিক অদক্ষতা। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালাও ধীরগতির অন্য একটি কারণ। এখন সব টেন্ডার ইজিপির আওতায় আনা হচ্ছে, যার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সময় লাগছে। নতুন আইন ও বিধিমালা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সরকারি ক্রয়ও কিছু সময় বন্ধ থাকায় এডিপি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

