প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগে দেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ জোরদার করতে নতুন এক পরামর্শক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের নিয়ে গঠিত এই পরিষদের প্রথম বৈঠকেই উঠে এসেছে ব্যবসা–বাণিজ্যের নানা বাস্তব চিত্র, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় নবগঠিত পরিষদের প্রথম বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। এ সময় দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিষদে মোট ১১ জন সদস্য রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
বাকি সদস্যরা দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এসিআই, এপেক্স ফুটওয়্যার, রানার গ্রুপ, প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ, বে গ্রুপ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, ডিবিএল গ্রুপ, র্যাংগস গ্রুপ ও প্যাসিফিক জিনসের শীর্ষ নির্বাহীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই পরিষদের বৈঠক নিয়মিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর সভা বসবে। সেখানে সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশের পাশাপাশি খাতভিত্তিক সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। পরিষদের সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবেন।
এ বিষয়ে পরিষদের সদস্য ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর ভাষায়, ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত সরাসরি সরকারের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নতুন এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়লে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

