দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে রাজনীতি ও অর্থনীতির সমন্বয় অপরিহার্য এমন বার্তাই উঠে এসেছে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। বক্তারা বলেছেন, এই দুই খাত একে অন্যের পরিপূরক। যেকোনো একটির ঘাটতি তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে সমাজে, বাড়ে বৈষম্য এবং সংকট। পরিস্থিতি চরমে গেলে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তারই উদাহরণ।
নেপালের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক বিনোদ কে চৌধুরীর লেখা বই ‘মেইড ইন নেপাল–লেসন ইন বিজনেস ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব এভারেস্ট’-এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বনানীতে প্লাটিনাম গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)। এতে বাংলাদেশ ও নেপালের সরকারি প্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে হলে ভালো রাজনীতি ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। এই দুইয়ের ভারসাম্য না থাকলে সংকট তৈরি হয়। তখন জনগণের অসন্তোষ বাড়ে এবং আন্দোলনের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জেনারেশন জেডের নেতৃত্বে নতুন করে গণআন্দোলনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নেপালের প্রথম বিলিয়নিয়ার বিনোদ কে চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালে প্রায় একই সময়ে সরকার পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা বিএনপির জন্য কিছুটা জনসমর্থন তৈরি করেছে বলেও তার পর্যবেক্ষণ।
দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তবে এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বাস্তবতা বড় বাধা। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত ইতিবাচক ভূমিকা না নিলে এই সহযোগিতা পূর্ণতা পাবে না।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, উন্নত অর্থনীতি গড়তে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ চালিয়ে যাবে। ভারতের সঙ্গে ট্রানশিপমেন্ট চালুর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান এবং ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির সহসভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান এবং ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমানসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা।
আইসিসিবি সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতায় বর্তমান অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। ধৈর্য, উদ্ভাবন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সহায়ক হবে।
বিনোদ কে চৌধুরী নেপালের সিজি গ্রুপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে বিশ্বের ৩৫টি দেশে। পর্যটন, হোটেল, রিসোর্ট, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খাতে তিনি কাজ করছেন। বাংলাদেশে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াই ওয়াই নুডলস’ দীর্ঘদিন ধরে বাজারে রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি বিওয়াইডিতেও তাঁর বিনিয়োগ আছে। তিনি নেপালের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দেশটির চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি।

