দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যাংক খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এখন অতীব জরুরি। ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের কাজ সমাপ্ত করতে না পারলেও, অন্তর্বর্তী সরকার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কার্যকর করেছে। প্রথমটি হলো ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, আর দ্বিতীয়টি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ।
নতুন সরকার চাইলে এই অধ্যাদেশগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে উভয় খাতের সংস্কার থেকে পিছিয়ে আসা সরকারের পক্ষে যৌক্তিক হবে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে এসব সংস্কারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে যদি সম্পর্কও না থাকে, তবেও সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। রাজস্ব খাতের সংস্কারের পথে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। আমলাতান্ত্রিক বাধা ও অনভিপ্রেত প্রতিরোধে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। কর প্রদান সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কর দেওয়া এড়ান। যারা কর আরোপ করেন, অনেকে শুনানি শেষে তা মওকুফ করে দেন। এ ধরনের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। তাই নীতি প্রণয়নকারী ও বাস্তবায়নকারী আলাদা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রায়ই শুধুই কর কমানোর দাবিতে এগিয়ে আসে। কিন্তু কর কমালে সরকার কীভাবে চলবে? এ বাস্তবতা উপেক্ষা করা যায় না।
অন্যদিকে, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের বিকল্প খুব সীমিত ছিল। সাম্প্রতিক ও আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায়, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকেও এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে সব উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অর্থ সাহায্য প্রদানে আগ্রহী থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। তাই বসন্তকালীন বৈঠকে আইএমএফের সঙ্গে সাবধানে আলোচনা করা জরুরি। সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাওয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে অপরিহার্য, নাহলে পরবর্তী সময়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।
- সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা।

